নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ২৯,মে :: দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটল। প্রবল ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
ঝড়ে ভেঙে পড়েছে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও কাঁচা বাড়ি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর এবং নদিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিকী চিত্র :: সৌজন্য ইন্টারনেট
কোথাও বজ্রপাতে, কোথাও আবার গাছ চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবার পিছু চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা রাতভর উদ্ধার ও পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজে নামেন।
বহু জায়গায় উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ঝড়ের কারণে রেল ও সড়ক যোগাযোগও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢোকার কারণে এই ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে বিরোধীরা ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাজ্য সরকার দাবি করেছে, দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

