সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: সোনারপুর :: সোমবার ১,জুন :: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সোনারপুরের কামরাবাদে শনিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ধরপাকড় শুরু হয়। রবিবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে পুলিশ ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। যদিও বিচারক অভিযুক্তদের একদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
শনিবার বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাদ এলাকায় এক মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই একদল উত্তেজিত মানুষ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ উঠেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ধাক্কাধাক্কি, জামা টেনে ধরা এবং শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। সোনারপুর থানার পুলিশ রাতভর এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সাধারণ মানুষের মোবাইলে ধরা পড়া দৃশ্য খতিয়ে দেখে একে একে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত, তপন মাইতি-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা সকলেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি শারীরিকভাবে হেনস্থা করছেন। বিশেষ করে ধৃত আকাশ গায়েনকে প্রথম হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, তিনি মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ফলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিশেষভাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

