নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: মঙ্গলবার ২,জুন :: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। আজ নির্ধারিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ধর্না কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা।
শেষ মুহূর্তে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট, একাধিক বিধায়কের বিক্ষুব্ধ অবস্থান এবং বিদ্রোহী শিবিরের ক্রমবর্ধমান শক্তি তৃণমূল নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। সূত্রের খবর, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত কালীঘাটের বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মমতা ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র,কুনাল ঘোষ এবং দোলা সেন । দলের অন্দরে ভাঙন ঠেকানো এবং বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের ফেরানোর কৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সংগঠক প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আজকের ধর্না কর্মসূচিতে ব্যাপক জন সমাগম নিশ্চিত করা এবং দলের শক্তি প্রদর্শনই তৃণমূল নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে সকালে নতুন করে জল্পনা ছড়ায় যখন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য-কে ওয়াই-চ্যানেল সংলগ্ন ধর্নাস্থলের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়। তিনি ধর্না মঞ্চের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তা যাচাই করতেই এই তৎপরতা।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকেও একাধিক পাল্টা কর্মসূচির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে আজকের ধর্না ঘিরে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। ধর্নাস্থল এবং কালীঘাট চত্বরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধর্না শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শনের পরীক্ষা ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহীদের ফেরাতে মমতা কতটা সফল হন এবং আজকের কর্মসূচিতে দলের উপস্থিতি কতটা হয়, তার উপর আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে।
ফলে সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে—নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্না হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে বদলে যাবে সমগ্র রাজনৈতিক সমীকরণ? কলকাতা থেকে দিল্লি—সর্বত্রই সেই উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।

