আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: মঙ্গলবার ১০,জুন :: আজ আবার মমতা রাস্তায় নামলেন দোয়া ভিক্ষা করতে । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙন রুখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
অভিযোগ, দলের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে লোকসভা ও বিধানসভার বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের প্রতীক ও তহবিল দখলের চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কি কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ফেরার পরিকল্পনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা ।


২৮ বছর আগের সেদিন সোনিয়ার দরজায় আজকের মমতা
যদিও এই খবরে অস্বস্তি বেড়েছে রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরে। দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের দলে নেওয়ার বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছে। তবে এই বিষয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ।
তিনি জানান, “রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। তবে রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব ও মতাদর্শ মেনে যারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসতে চান, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য কংগ্রেসে কোনো জায়গা নেই।”
প্রায় তিন দশক আগে কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক পথের সন্ধান করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময়ের রাজনৈতিক সংঘাত এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ছিল রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয়।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ, জোটের সম্ভাবনা এবং জাতীয় স্তরে বিজেপির মোকাবিলার প্রশ্নে আবারও কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ বছর আগে যে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার অনেকটাই ইতিহাস। এখন জাতীয় রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য এবং নির্বাচনী সমীকরণই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিরোধীরা বলছেন, কংগ্রেসকে দুর্বল করে নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করার পর আজ আবার সেই কংগ্রেসের সমর্থন বা সহযোগিতা চাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি আঞ্চলিক দলগুলির রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন।
অন্যদিকে তৃণমূলের সমর্থক ও নেতাদের বক্তব্য, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক আলোচনা বা জোটের সম্ভাবনা খোঁজা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন দলের মধ্যে যোগাযোগ থাকতেই পারে।
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এটি কি শুধুই কৌশলগত যোগাযোগ, নাকি ভবিষ্যতের বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের ভিত্তি? সেই উত্তর এখনই স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় নিয়ে অধিকাংশ পর্যবেক্ষক একমত—ভারতের রাজনীতিতে পরিস্থিতি বদলালে সম্পর্ক ও সমীকরণও দ্রুত বদলে যায়।

