তৃণমূল ও এনসিপি কি কংগ্রেসে মিশতে চলেছে ? নানা পাটোলের সাংবাদিক সম্মেলনের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা

কুমার পঙ্কজ :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: শুক্রবার ১২,জুন :: বিরোধী রাজনীতির অন্দরে নতুন করে জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা নানা পটোলের সাম্প্রতিক সাংবাদিক সম্মেলনের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশে প্রশ্ন উঠেছে—

আসন্ন জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে কি আঞ্চলিক দলগুলি আরও ঘনিষ্ঠভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে?

                                  মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা নানা পটোলে

সেই সূত্র ধরেই আলোচনায় উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও এনসিপির নাম। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনও দলই আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেনি, তবুও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নানা পাটোল বিরোধী শক্তির বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বিজেপি-বিরোধী ভোটকে একত্রিত করার প্রসঙ্গ উঠে আসে।সেই মন্তব্য থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে কংগ্রেস হয়তো আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে আরও নিবিড় সাংগঠনিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইতে পারে।

তবে পাটোল কোথাও সরাসরি তৃণমূল বা এনসিপির কংগ্রেসে বিলয়ের কথা উল্লেখ করেছেন বলে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করেছে। পশ্চিমবঙ্গ-কেন্দ্রিক শক্তি হলেও দলটি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় স্তরে নিজেদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

ফলে সরাসরি কংগ্রেসে বিলয়ের সম্ভাবনাকে অনেক পর্যবেক্ষক বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন না। বরং নির্বাচনী সমঝোতা বা ইস্যুভিত্তিক সহযোগিতার সম্ভাবনাই বেশি বলে তাঁদের মত।

এনসিপির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল। দলের ভাঙন ও পুনর্গঠনের পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শারদ পাওয়ারপন্থী গোষ্ঠী ও কংগ্রেসের মধ্যে সহযোগিতা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক একীভবনের প্রশ্নে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রকাশ্যে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারতের বহুদলীয় গণতন্ত্রে আঞ্চলিক দলগুলির নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি ও নেতৃত্বের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে সরাসরি দলীয় বিলয় অপেক্ষা নির্বাচনী জোট, আসন সমঝোতা এবং যৌথ আন্দোলনের পথই বেশি সম্ভাব্য।

অন্যদিকে কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, যদি ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, তাহলে বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি কেবল রাজনৈতিক জল্পনার স্তরেই রয়েছে।

নানা পাটোলের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে এলেও, তৃণমূল কংগ্রেস বা এনসিপি কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছে—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও প্রকাশ্যে নেই।

ফলে বিষয়টিকে আপাতত রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে এই আলোচনার পরবর্তী অধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =