নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ১৭,জুন :: রেল চত্বর ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা হকারদের উচ্ছেদ অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হকারদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা না করে শুধুমাত্র উচ্ছেদ করা যাবে না।
আগে বিকল্প জায়গা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় রেলের তরফে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় বহু হকার কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি হকার সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, কোনও পূর্ব নোটিশ বা পুনর্বাসনের রূপরেখা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যা হাজার হাজার পরিবারের জীবিকাকে বিপন্ন করছে।মামলার শুনানিতে হকারদের আইনজীবীরা জানান, বহু ব্যবসায়ী বছরের পর বছর ধরে ওইসব এলাকায় ব্যবসা করছেন।
তাঁদের অনেকের পরিবার সম্পূর্ণভাবে এই আয়ের উপর নির্ভরশীল। হঠাৎ উচ্ছেদ হলে তাঁদের চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্টেশনের শৃঙ্খলা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার স্বার্থে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে, তেমনই জীবিকার অধিকারও সংবিধান স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। বিচারপতি নির্দেশ দেন, পুনর্বাসনের কোনও কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।
বিকল্প জায়গা বরাদ্দ বা পুনর্বাসনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশে স্বস্তি ফিরে এসেছে হকার মহলে। বিভিন্ন হকার সংগঠনের নেতারা আদালতের রায়কে “মানবিক ও বাস্তবসম্মত” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে মানুষের রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়া যায় না।
তবে রেল কর্তৃপক্ষের একাংশ মনে করছে, স্টেশন চত্বরকে দখলমুক্ত করার কাজ এখন কিছুটা বিলম্বিত হবে। আগামী শুনানিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বাসন সংক্রান্ত পরিকল্পনা পেশ করা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলেও এই রায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলগুলি হকারদের স্বার্থরক্ষায় আদালতের ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক মহল বলছে, নিরাপত্তা ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পথই খুঁজতে হবে। এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে রেল চত্বরের হকারদের ভবিষ্যৎ এবং পুনর্বাসনের রূপরেখা।

