নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ১৯,জুন :: নির্বাচনে ভরাডুবির পর ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
এরপর দেশ জুড়ে সমালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেই ভারতের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশদ্রোহী উল্লেখ করে লালবাজার সাইবার সেল এবং হেয়ার স্ট্রীট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
এর পাশাপাশি হিন্দু মহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের অনুষ্ঠানে পাওয়া গামছা, উত্তরীয় ও কার্ড ফিরিয়ে দিতে উপস্থিত হন ।
হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য হিন্দু ধর্মে আমরা কখনো কাউকে উপহার ফিরিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করিনা ।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বে ইডি সিবিআই এর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করা, সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধাচরণ করা, বিএসএফকে জমি না দেওয়ার মত একাধিক ভারত বিরোধী কাজ করেছেন ।
আর এবার প্রকাশ্য সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল নেতা ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় সরাসরি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দায়ী করে উনি দেশদ্রোহিতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছেন ।
তাই আমরা ঠিক করেছি কোন দেশবিরোধী জিহাদী সমর্থক ব্যক্তির কোন চিহ্ন আমাদের কাছে রাখবনা । আমরা চাই আমাদের দেখে উৎসাহিত হয়ে সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন জাতীয়তাবাদী মানুষ যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওনার কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত উপহার ফিরিয়ে দেয় ।
চন্দ্রচূড় বাবু আরও বলেন আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি দাবী করছি কারণ ওনার বক্তব্যের জেরে একদিকে সারা পৃথিবীর কাছে ভারতের মান মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে তেমনই বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ওই দেশে বসবাসকারী কোটির উপর নিরপরাধ সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবনে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দেখা দিয়েছে ।
শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বেশ কিছু জায়গায় হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা লাগানো এবং তারপর সেই ঘোলা জলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এইরকম কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন । ওনার মন্তব্যের কোন সত্যতা বা বাস্তবতা নেই ।
দেশের সম্মানের বিনিময়ে এবং মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার এই নোংরা মানসিকতার জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির আজ এই অবস্থা ।
আমরা আরেকটি বিষয় খুব স্পষ্ট ভাবে খেয়াল করছি বাংলাদেশের বর্ডার অঞ্চল গুলোতে যেখানে জামাত ই ইসলাম জিতেছে তার ঠিক বিপরীতেই ভারতীয় বর্ডার অঞ্চলে হয় তৃণমূল জিতেছে আর নাহলে ভালো ভোট পেয়েছে । তাহলে এখানে অনুপ্রবেশকারী জিহাদী মুসলমানরাই কি এই ভোটের খেলার আসল কারিগর ?
তারা হয়ত ভোটের সময় বর্ডার পেরিয়ে দুই দেশেই ভোট দেয় । কিন্তু বর্তমান বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে বর্ডারে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হলে যেহেতু জিহাদী সন্ত্রাসবাদীরা আর এই দেশে আসতে পারবেনা সেটা ভেবেই মমতা এত উগ্র দেশবিরোধীতায় নেমেছে ।
আমরা চাই এই সমস্ত ঘটনা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং সর্বোপরি নরেন্দ্র মোদিজীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার যেন একজন জিহাদী সন্ত্রাসবাদী হিসেবে বিচার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়

