নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ১৯,জুন :: দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক ব্যানার্জিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
দলের একাংশ বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি ও কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাঁর কথিত বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ঘন ঘন চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের খরচের উৎস নিয়ে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন।
তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ কর্মীরা যখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্থিক চাপে জর্জরিত, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের জীবনযাত্রা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা উচিত।
একাধিক কর্মীর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফরের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে চার্টার্ড বিমানের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এসব যাত্রার খরচ কীভাবে মেটানো হচ্ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দলের কর্মী-সমর্থকদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিলাসবহুল চার্টার্ড বিমান সফর ঘিরে ক্ষোভের মেঘ জমছে। শুধু অভিষেকই নন, সম্প্রতি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিতে গিয়েছেন এবং ফিরেছেন অভিষেকের ভাড়া করা সেই চার্টার্ড বিমানেই । শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফরকে দলের একটা বড় অংশ মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না।
যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও সরকারি নথি বা প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের আবহে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষের যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এই বিতর্ক তাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দলের একাংশের বক্তব্য, সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা, অনুদান ও সাংগঠনিক তহবিল সংগ্রহ করা হয়।
ফলে নেতৃত্বের ব্যয়বহুল সফর ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার জবাব দেওয়া দলের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে আর্থিক স্বচ্ছতার নথিও প্রকাশ করা উচিত।
অন্যদিকে, অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতারা এই ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধী শক্তি এবং দলের মধ্যেই কিছু অসন্তুষ্ট গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
চার্টার্ড বিমানের ব্যবহার অনেক সময় নিরাপত্তা, সময় সাশ্রয় এবং একাধিক কর্মসূচিতে দ্রুত পৌঁছানোর প্রয়োজনেই করা হয়ে থাকে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
তবে বিতর্ক যেদিকেই গড়াক না কেন, এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি যে বেড়েছে তা রাজনৈতিক মহলের একাংশ স্বীকার করছে। আগামী দিনে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই প্রশ্নগুলির মোকাবিলা কীভাবে করে এবং কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সংশয় কতটা দূর করতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

