উত্তাল নদী থেকে ভেসে যাওয়া যুবক যুবতীদের উদ্ধারের রোমহর্ষক ভিডিও দেখুন

সজল দাশগুপ্ত :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: বুধবার ১৫,জুলাই :: টানা বৃষ্টিতে এমনিতেই ফুলেফেঁপে রয়েছে পাহাড়ের একাধিক নদী। তার মধ্যে দুধিয়ার বালাসন নদীতে রাতের অন্ধকারে গাড়ি নিয়ে নামেন চার যুবক-যুবতী। জলস্তর বাড়তে থাকায় মাঝ নদীতে আটকে পড়ে ওই গাড়ি।

স্থানীয় এক যুবকের তৎপরতায় নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া চার আরোহী-সহ ওই গাড়িকে উদ্ধার করা হয়। স্রোতের বিপরীতে গিয়েই এক এক করে যুবক ও যুবতীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নদী থেকে উদ্ধার করেন তিনি। তাঁদের প্রত্যকেই সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে দুরধিয়ার বালাসন নদীতে গাড়ি নিয়েই নেমে পড়েন বেশ কয়েক জন যুবক ও যুবতী। নদীর ধারে গাড়ি নিয়ে এ দিক থেকে সে দিক ঘোরাঘুরি শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎই জলস্তর বাড়তে থাকে বালাসন নদীতে। গাড়ির মধ্যেই সেই হড়পা বানে আটকে পড়েন চার আরোহী।

কোনও ভাবেই গাড়ি আর নদী পার করতে পারছিল না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় এলাকা জুড়ে। কোনও প্রকারে গাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ির উপরে উঠে পড়েন আটকে থাকা যুবক যুবতীরা।

কিন্তু নদীর জলস্তর আরও বাড়তে থাকে৷ অবশেষে কোনও কিছু না ভেবেই স্থানীয় এক যুবক উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,গাড়িতে দু’জন যুবক ও দু’জন যুবতী ছিল। তাঁরা হঠাৎই গাড়ি নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন। নদীর পাথরে গাড়ি আটকে যায় এবং নদীর জল বাড়ার ফলে গাড়ির ভিতরে থাকা সকলেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। প্রাণে বাঁচতে তাঁরা এক এক করে গাড়ির ছাদে উঠে পড়েন।

তিনি বলেন, “আমাদের গ্রামেরই এক দাদা দড়ির সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। প্রথমে তাঁরা দড়ি ধরতে গিয়েই নদীতে পড়েও যান। পরে নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।”

উল্লেখ্য, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী পাহাড়-সহ সমতলে দফায় দফায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত চলছে। তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা, রায়ডাক, জলঢাকা, বালাসনের মত নদীগুলো ফুঁসছে।

নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের প্রশাসনের পক্ষ সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তরিত করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, ধসের কবলে জাতীয় সড়ক ১০। ২০ মাইলে পাহাড় থেকে নেমে আসছে কাদামাটি। তা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

কালিম্পং ও সিকিমগামী রাস্তায় বিভিন্ন সময় পাহাড় থেকে নেমে আসছে বড় বড় পাথরের চাই৷ এমন পরিস্থিতিতে এই যুবক যুবতীরা রাতের অন্ধকারে কেন বালাসনের নদী বক্ষে গাড়ি নিয়ে নামতে গেলেন তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × three =