গ্রাম পঞ্চায়েতের গোডাউনে সরকারি সামগ্রী! ১৭টি সবুজ সাথী সাইকেল, নতুন হুইলচেয়ার ও ত্রাণের পলিথিন ঘিরে প্রশ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ধূপগুড়ি :: বুধবার ২,সেপ্টেম্বর :: গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ের গোডাউনে মজুত অবস্থায় একাধিক সরকারি সামগ্রী ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে।

গোডাউনে দেখা মিলেছে ত্রাণের পলিথিন ও ত্রিপল, একাধিক নতুন হুইলচেয়ার এবং স্টিকার লাগানো ১৭টি সবুজ সাথী সাইকেলের। সরকারি এই সামগ্রীগুলি কীভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ে এল, কতদিন ধরে মজুত রয়েছে এবং নির্দিষ্ট উপভোক্তাদের হাতে সেগুলি কেন পৌঁছয়নিতা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

রাজ্যের তৎকালীন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের অন্যতম জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ছিল সবুজ সাথী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়া হয়ে থাকে।

অথচ সেই প্রকল্পের স্টিকার লাগানো ১৭টি সাইকেল দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরে পড়ে থাকার অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

শুধু সাইকেল নয়, একই জায়গায় মজুত রয়েছে ত্রাণের জন্য ব্যবহৃত পলিথিন ও ত্রিপল। পাশাপাশি কার্যালয়ের ভিতরে বেশ কয়েকটি একেবারে নতুন হুইলচেয়ারও দেখা গিয়েছে।

ফলে সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সামগ্রী কেন উপভোক্তাদের কাছে না পৌঁছে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের গোডাউনে পড়ে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, ঝড়-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সামান্য একটি সরকারি প্লাস্টিক বা ত্রিপল পাওয়ার জন্যও মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কখনও প্রধান-উপপ্রধান, আবার কখনও জনপ্রতিনিধিদের ঘিরে বিক্ষোভের পাশাপাশি পথ অবরোধের ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

তাদের প্রশ্ন, যে সময় দুর্যোগকবলিত মানুষ ত্রাণের একটি পলিথিন বা ত্রিপলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, সেই সময় যদি পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরেই বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুত থেকে থাকে, তাহলে তা প্রয়োজনীয় মানুষের হাতে পৌঁছয়নি কেন? হুইলচেয়ার নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − four =