সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: রবিবার ১৫,ডিসেম্বর :: ১৯৮০ সালে মুক্তি পেয়েছিল কালজয়ী বাংলা ছবি ‘বাঞ্ছারামের বাগান’। সদ্য প্রয়াত নাট্যকার-অভিনেতা মনোজ মিত্রের নাটক ‘সাজানো বাগান’ অবলম্বনেই ছবিটি বানিয়েছিলেন পরিচালক তপন সিংহ। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন মনোজ মিত্রই। বৃদ্ধ বাঞ্ছারামের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র।
ছবির আউটডোর অংশের শ্যুটিং হয়েছিল বারুইপুরের একটি বাগানে। সিনেমা মুক্তির পর থেকেই সেই বাগান বিখ্যাত হয়ে ওঠে ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ নামেই। পঁয়তাল্লিশ বছর পরেও সেই বাঞ্ছারামের স্মৃতি বয়ে একইরকম রয়েছে বারুইপুরের শিখরবালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় চক্রবর্তী পরিবারের সেই আম বাগান। বছর চারেক আগেও একবার এই বাগানে ঘুরে যান মনোজ মিত্র।
চক্রবর্তী পরিবারের এক আত্মীয়ের যোগাযোগ ছিল সিনেমা জগতে। সেই সূত্রে তপন সিংহকে চিনতেন তিনি। সিনেমার জন্য যখন বাগান খুঁজছেন পরিচালক, তখন সেই আত্মীয়ই তপনবাবুকে বারুইপুরে ওই বাগানে শুটিংয়ের প্রস্তাব দেন। সরেজমিনে দেখতে আসেন তপনবাবু। বাগান পছন্দ হয় তাঁর।
এরপরেই শুরু হয় শুটিং। চক্রবর্তী বাড়ির বর্তমান কর্তা দীপক চক্রবর্তী শুটিংয়ের সময় ছিলেন বছর বারোর কিশোর। তিনি জানান, টানা প্রায় এক মাস শুটিং চলেছিল এখানে। শুটিং চলাকালীন বারুইপুরেই একটি বাড়িতে থাকতেন মনোজবাবু সহ অন্য কলাকুশলীরা।
দীপকবাবু জানান, বর্তমানে ওই বাগানে মাঝে মধ্যে সিনেমার শ্যুটিং হয়। শীতকালে বনভোজনেও আসেন কেউ কেউ। কিন্তু এত বছরেও কয়েক বিঘা জুড়ে বিস্তৃত ওই বাগানের তেমন পরিবর্তন হতে দেননি তাঁরা। একই রকম আছে প্রাচীন আমগাছগুলি। বাগানের গাছ-গাছালি, পাখি, প্রাণিজগতের সুরক্ষার দিকে আলাদা করে নজর রাখা হয় বলেই জানান তিনি।
কয়েকবছর আগে একটি ফটোশ্যুটের জন্য আবার ওই বাগানে এসেছিলেন মনোজ মিত্র। দীপকবাবুর ছেলে চক্রবর্তী বাড়ির নবীন সদস্য দ্বৈপায়ন চক্রবর্তী জানান, বাগানে এসে অতীতের স্মৃতিতে ডুব দেন তিনি। প্রথম দিন ভোর চারটেয় শ্যুটিং করেছিলেন মনোজবাবু। সেই স্মৃতিচারণা উঠে আসে তাঁর কথায়।
প্রথম দিনেই বাগানের পাশে একটি পুকুর থেকে জল তোলার দৃশ্য ছিল। শীতের ভোরে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার বিবরণ এত দিন পরেও গড়গড় করে বলে যান মনোজ মিত্র। দ্বৈপায়ণ জানান, বাগানটি একই রকম আছে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি।