নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে রহস্য, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ কিশোরীর মৃত্যু —:

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: চুঁচুড়া :: রবিবার ০৪, জানুয়ারি :: নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমান জেলায় । অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন এক নাবালিকা কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন শনিবার। মৃত কিশোরীর নাম মুন্নি মাল বয়স ১৬ বছর ।

সে হুগলি জেলার চুঁচুড়া থানার অন্তর্গত তোলাফটক এলাকার বাসিন্দা এবং ক্লাস টেনের ছাত্রী ছিল । দেহ ময়নাতদন্ত হলো শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাবালিকা হওয়ার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে না দেওয়ায় কুনাল নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যায় মুন্নি।গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার, বাথরুমে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি সে। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে মুন্নির মা আশা মাল চুঁচুড়া থানায় একটি লিখিত নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

এরপর হঠাৎ করেই ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, কুনালের বাড়ি থেকে মুন্নির পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়, রান্না করার সময় আগুনে পুড়ে সে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।

তাকে দ্রুত বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি বর্ধমান মেডিকেলে পৌঁছান।

এদিন মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। বর্ধমান থানার পুলিশ দুপুর প্রায় দুটো নাগাদ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

এদিকে, মৃত নাবালিকার মা আশা মাল গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, ছেলের বাড়ির লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মেয়ের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে। মেয়ের শরীরের পোড়ার ধরন ও পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর প্রবল সন্দেহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত যুবক কুনালকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 6 =