নিজস্ব প্রতিনিধি :: সংবাদ প্রবাহ :: বারাবনি :: শনিবার ২৪,জানুয়ারি :: বারাবনি বিধানসভা অন্তর্গত লালগঞ্জ এলাকায় মৌ রায় নামের এক মহিলাকে তার বাড়ির ভিতর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে মৃতার ছেলে লক্ষ্য করেন, তার মায়ের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং যে গয়নাগুলি তিনি নিয়মিত পরতেন, সেগুলিও গলায় নেই। এরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত মৌ রায় তার ছোট পুত্রবধূ রিয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসানসোল উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এর পর মৃতার ভাই খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, রিয়া রায়ের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের ডাল্টনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পুলিশ সন্দেহ করে, এই রহস্যমৃত্যুর পিছনে রিয়া রায় এবং ওই যুবকের হাত থাকতে পারে। এরপরই ডাল্টনগঞ্জের ওই যুবকের খোঁজ শুরু করে পুলিশ।
এরপর আসানসোলের ভগত সিং মোড় এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি জেরায় সে স্বীকার করে যে, সেই মৌ রায়কে খুন করেছে এবং এই ঘটনায় রিয়া রায়ও জড়িত রয়েছে। এরপর রিয়া রায়কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানান, ধৃত যুবকের নাম সমীর আলম। তিনি আসানসোলে যে হোটেলে ছিলেন, সেই হোটেলের ঘর থেকেই মৃত মহিলার গয়না উদ্ধার হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তদন্ত প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

