সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: আনন্দপুর :: মঙ্গলবার ২৭,জানুয়ারি :: দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে খাবারের গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮-এ। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুরোপুরি নেভেনি আগুন।
ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক দগ্ধ কঙ্কালসার দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।সুজিত বসু জানিয়েছেন যে, “প্রজাতন্ত্র দিবস থাকার কারণে কাল বিভিন্ন জায়গায় ব্যস্ত ছিলাম।”
তবে তিনি দাবি করেছেন যে, ভোর তিনটে থেকেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখেছিলেন।প্রায় ৩৫ হাজার স্কোয়ার ফিট এলাকা জুড়ে ওই গোডাউনে মোমো তৈরির কারখানা এবং ডেকোরেটরসের সামগ্রী ছিল। পর্যায়ক্রমে ঘটনাস্থলে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও পকেট ফায়ারের কারণে এখনও দমকলের গাড়ি মোতায়েন রাখা হয়েছে। তাঁর কথায়, জায়গাটি কার্যত জতুগৃহ, কারণ প্রচুর দাহ্য পদার্থ সেখানে মজুত করে রাখা ছিল। তিনি আরও স্বীকার করেন যে, সেখানে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তাঁর চোখে পড়েনি।
মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ওই গোডাউনে ফায়ার অডিট হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ফরেনসিক টিম যাবে, এফআইআর করা হবে এবং পুরো ঘটনার তদন্তও করা হবে।পুলিশ ও দমকল সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে তা দেখে চেনার উপায় নেই। মূলত হাড়গোড় ও কঙ্কাল উদ্ধার হচ্ছে।
মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই দেহাবশেষ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।এদিন সকালেই দুর্ঘটনাস্থলে যান ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা।
জানা গিয়েছে, ওই কারখানায় ময়না এলাকার বহু শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁদের খোঁজখবর নিতে এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কথা বলতে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সব মিলিয়ে, আনন্দপুরের আকাশ এখনও কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আর নিচে স্বজনহারাদের কান্নার রোল ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।

