সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: মগরাহাট :: বুধবার ২৮,জানুয়ারি :: স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছ থেকে বারংবার অপমানের শিকার । স্বামীর বাড়িতে ঠাঁই নেই গৃহবধুর। বারবার অপমানিত হয় নিজেকে শেষ করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল গৃহবধূ। ফল কাটা ছুরি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিল গৃহবধূ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায় স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মগরাহাট থানার অন্তর্গত সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিবানী নাইয়া (৩৩)। এক দশক আগে স্থানীয় যুবক অজয় নাইয়ার সাথে বিয়ে হয় শিবানী নাইয়ার।
শিবানী এবং অজয়ের দুটি মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি অজয় এবং শিবানীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে সম্পর্কের। শিবানীর পরিবারের অভিযোগ অজয় শিবানীকে মারধর করত এবং বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।
কয়েক মাস ধরে মগরাহাট থানার অন্তর্গত হরিশংকরপুর সাহা পাড়া এলাকায় বাপের বাড়িতে থাকতো। উল্লেখিত সরস্বতী পূজার পরের দিন তার দুই মেয়েকে দেখতে বাড়িতে যায় ।
সেই সময় অজয় ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনার পর থেকে মানসিক অবসাদে ভুগছিল শিবানী । অবশেষে মঙ্গলবার রাতে ফলকাটা ছুরি দিয়ে নিজের গলায় কোপ দিয়ে আত্মঘাতী হয় ।
এ বিষয়ে শিবানী নাইয়ার বাবা শম্ভু হালদার জানান, কয়েকদিন আগে সরস্বতী পুজোর পরের দিন শিবানী তার শশুর বাড়ি গিয়েছিল । সেখানে তাকে অপমান করা হয়। এছাড়াও স্বামী ওকে অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল । তারপর থেকে ও আমাদের কাছেই থাকতো।
রাতে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। এরপর শিবানী ওর ঘরে চলে যায়। তারপর সকালে উঠে দেখি নিজেকে শেষ করে দিয়েছে ও। আমরা তড়িঘড়ি মগরাহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের মৃত বলে জানিয়ে দেন। আমার মেয়ে যেভাবে শেষ হয়ে গেল আমরা চাই এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করুক পুলিশ ।

