ভবানীপুরে ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ – খসড়া তালিকা নিয়ে জরুরি বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ৩০,জানুয়ারি :: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

ভোটের মুখে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়াকে “গুরুতর ও অস্বাভাবিক” বলে দাবি করে শুক্রবার দলের ভবানীপুর কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকে তৃণমূল নেতৃত্ব।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীঘাটের   দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের পর দেখা যায়, ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে উধাও। এর মধ্যে বহু পুরনো ভোটার রয়েছেন, যাঁরা আগের একাধিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবেই একটি বিশেষ শ্রেণির ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক, কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা, ব্লক ও ওয়ার্ড স্তরের নেতারা এবং দলের নির্বাচনী কোর কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— প্রতিটি ওয়ার্ডে বুথভিত্তিকভাবে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা হবে

যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানানো হবে | বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হবে। আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের দফতরে প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।

একজন প্রবীণ তৃণমূল নেতা বলেন, “৪৫ হাজার ভোটার মানে একটা গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের সমীকরণ বদলে যাওয়া। এটা নিছক প্রশাসনিক ভুল বলে মেনে নেওয়া যায় না।”

তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দলের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের আগে যথাযথভাবে প্রচার করা হয়নি এবং বহু ক্ষেত্রেই ভোটারদের কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি।

যদিও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নিয়ম মেনেই তালিকা সংশোধনের কাজ হয়েছে এবং যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করলে পুনরায় নাম তোলার সুযোগ পাবেন।

এদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলেই তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়েছে।” যদিও তৃণমূল এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ভবানীপুরে ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, একজন প্রকৃত ভোটারও যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × five =