মায়াপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সফর: “ভক্ত হিসাবে এসেছি”, শেষ করলেন ‘হরেকৃষ্ণ’ ধ্বনিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মায়াপুর :: বুধবার ১৮,ফেব্রুয়ারি :: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তীর্থস্থান মায়াপুর-এ এক বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, তিনি এখানে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং “একজন ভক্ত” হিসেবেই উপস্থিত হয়েছেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি ‘হরেকৃষ্ণ’ ধ্বনি উচ্চারণ করলে সমবেত ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগের সঞ্চার হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় ইস্কন-এর প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির প্রাঙ্গণে।

সকাল থেকেই দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী সেখানে সমবেত হন। মন্দির চত্বর জুড়ে ছিল কীর্তন, পূজা ও আধ্যাত্মিক আলোচনা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “মায়াপুর কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি আধ্যাত্মিক চেতনার এক বিশ্বকেন্দ্র। এখানে এসে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আজ আমি প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে নয়, একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে প্রার্থনা করতে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, আধ্যাত্মিক চর্চা সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বক্তব্যের শেষে তিনি ভক্তদের সঙ্গে একসঙ্গে ‘হরেকৃষ্ণ, হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপ করেন। তাঁর এই অংশগ্রহণ উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মায়াপুর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মন্দির চত্বরে প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয় এবং যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

ইস্কনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এই সফর মায়াপুরের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে। সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেন, “মায়াপুর বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও ভক্তির বার্তা বহন করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভক্তিসুলভ উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বহু ভক্ত বলেন, একজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রীকে ভক্ত হিসেবে কীর্তনে অংশ নিতে দেখা তাঁদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, এই সফর ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সর্বোপরি, সরকারি দায়িত্বের বাইরে এসে একজন ‘ভক্ত’ হিসেবে মায়াপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতি এবং ‘হরেকৃষ্ণ’ ধ্বনিতে বক্তব্য শেষ করা দিনটির প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 5 =