হেরিটেজ ঘোষণার পরও প্রশ্নে গতি, আশায় বুক বেঁধেছে শান্তিপুরবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: শান্তিপুর :: শুক্রবার ২০,ফেব্রুয়ারী :: সম্প্রতি শান্তিপুরকে বহু প্রাচীন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সম্বলিত হেরিটেজ শহর হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার পর দূরদূরান্তের পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়।

তবে অভিযোগ, হোমস্টে ও গাইডদের কিছু প্রশিক্ষণ ছাড়া দৃশ্যমান বড় কোনও পরিকাঠামোগত অগ্রগতি এখনও চোখে পড়েনি।

এ নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করলেও শাসকদলের বক্তব্য, হেরিটেজ মানেই সার্বিক উন্নয়ন—রাস্তা, পানীয় জল, শৌচালয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা—যার কাজ বিধায়ক তহবিল, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পুরসভার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে চলছে।

ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ শান্তিপুরে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, গির্জা, বিগ্রহবাড়ি, গঙ্গার ধারের মনোরম পরিবেশ, পুরনো জমিদারবাড়ি ও বিখ্যাত তাঁতশিল্প। পাশাপাশি হিমসাগর-সহ নানা প্রজাতির আম এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র।

এই আবেগঘন শহরে পরিবেশকর্মী, লেখক-সাহিত্যিক ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘সুরধ্বনি শান্তিপুর’।

এবার সরকারি উদ্যোগে সিভিল ডিফেন্সের অস্থায়ী কর্মীদের পর্যটন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ফুলিয়া ও শান্তিপুরের ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে তুলে ধরতে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টা থেকে ফুলিয়ার নবলা অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া র‍্যালি পাঁচু গোপাল মন্দির, ভাঙ্গা কালী মন্দির, বেলঘড়িয়ার দুর্গাপ্রসাদ জমিদারবাড়ি, বয়রাঘাট ও কামাখ্যা মন্দির ঘুরে শান্তিপুরে প্রবেশ করে।

পরে মতিগঞ্জ জলেশ্বর মন্দির, তোপখানা মসজিদ, শ্যামচাঁদ মন্দির, আগমেশ্বরী মন্দির ও বড় গোস্বামী বাড়ি পরিদর্শন করে শোভাযাত্রা পৌঁছয় রাজ্যের দ্বিতীয় প্রাচীন শান্তিপুর পৌরসভায়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের পৌর ইতিহাস বিষয়ক পুস্তিকা দেওয়া হয়। অদ্বৈত পাঠে সমাপ্ত হয় কর্মসূচি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =