২২ বছরের অপেক্ষা শেষে প্রশ্ন একটাই— ধর্ম বড়, না জন্মদাত্রী মা?

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: বুধবার ২৫,ফেব্রুয়ারি :: ধর্ম বড়, না জন্মদাত্রী মা?— সুশীলা মুর্মু প্রসঙ্গে যা বললেন হ্যাম রেডিওর সম্পাদক । ২২ বছর পর পরিবারের সন্ধান মিললেও ঘরে ফেরা হল না ৬২ বছরের সুশীলা মুর্মুর। এই ঘটনায় মানবিকতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

২০০৪ সালে বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর কলকাতায় এসে পৌঁছন সুশীলা। পরে তাঁকে একটি হোমে রাখা হয়। সেখান থেকেই যোগাযোগ করা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল এম রেডিও ক্লাব–এর সঙ্গে।হ্যাম রেডিও সদস্যদের প্রচেষ্টায় খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর বাড়ির ঠিকানা— বিহারের গদ্দা জেলার পরিয়াহাট থানার অন্তর্গত দাহুপদার মঙ্গুতল্লা গ্রামে।

ভিডিও কলে একমাত্র ছেলে মদন বেসরার সঙ্গে কথা হয় তাঁর। ছেলে মাকে চিনতে পারলেও ধর্মীয় কারণে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে। প্রশ্ন ওঠে— জন্মদাত্রী মা বড়, না ধর্ম? ছেলের উত্তর— “ধর্ম।” এই প্রসঙ্গে অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস, সম্পাদক, ওয়েস্ট বেঙ্গল হ্যাম রেডিও বলেন,

“আমরা হ্যাম রেডিও কর্মীরা হারিয়ে যাওয়া মানুষকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়াকেই মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করি। প্রযুক্তি আমাদের মাধ্যম, কিন্তু লক্ষ্য একটাই— মানুষকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

সুশীলা দেবীর ক্ষেত্রেও আমরা সেই কাজটাই করেছি। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না।

এই ঘটনায় আমরা ব্যথিত। কারণ, একজন মা ২২ বছর পর ছেলের মুখ দেখলেন, কিন্তু ঘরে ফিরতে পারলেন না— এটা নিঃসন্দেহে হৃদয়বিদারক।” তিনি আরও বলেন, “ধর্ম, জাতি বা পরিচয়— এগুলো ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু মানবিকতার ঊর্ধ্বে কিছুই হতে পারে না।

আমরা আশা করি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের মনোভাব বদলাবে এবং একদিন সুশীলা দেবী তাঁর নিজের ঘরে ফিরতে পারবেন।” এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়— এটি আমাদের সমাজের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন রয়ে যায়, সত্যিই কি আমরা মানবিকতাকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখতে পেরেছি ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 4 =