রোজগারের তাগিদে গুজরাট, পরিণতিতে পাকিস্তানের জেল—তিন পরিবারে অনিশ্চয়তার ছায়া

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নামখানা :: বুধবার ২৫,ফেব্রুয়ারি :: দক্ষিণ ২৪ পরগণার নামখানার নাদাভাঙ্গা গ্রামের তিন মৎস্যজীবি তপন মহাপাত্র (৫০), কাশীনাথ মণ্ডল (৫৮) এবং দিলীপ বাগ (৪৮)—প্রায় তিন বছর ধরে পাকিস্তানের জেলে বন্দি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ নেই।

অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা আর আর্থিক সংকটে দিন কাটছে বাড়ির লোকজনের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবিকার তাগিদে তাঁরা গিয়েছিলেন গুজরাট উপকূলে। সেখান থেকে একটি ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান।মাছ ধরার সময় অসাবধানতা বশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়েন বলে দাবি পরিবারের। এরপরই পাকিস্তান নেভি তাঁদের আটক করে।

প্রায় ২০ দিন পর ট্রলারের মালিকের মাধ্যমে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। ২০২৪ সালে শেষবার একটি চিঠি এসেছিল; তারপর থেকে আর ফোন, চিঠি বা কোনও বার্তা—কিছুই মেলেনি।

তিনজনই ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের অনুপস্থিতিতে সংসার কার্যত থমকে গেছে। ধার দেনা করে চলছে নিত্যদিনের খরচ।

সন্তানদের পড়াশোনা অনিশ্চিত, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন। তপন মহাপাত্রের স্ত্রী মমতা মহাপাত্রের কণ্ঠে শুধু আর্তি—“আমার কিছু চাই না, শুধু স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।

ওনাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছি, ফিরিয়ে আনা হবে।” পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত তিন বছরে বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁরা। কিন্তু নিশ্চিত কোনও অগ্রগতির খবর পাননি। বুধবার মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, বিষয়টি সামনে আসার পরই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে সংসদেও বিষয়টি তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 4 =