ধূপগুড়িতে গ্যাসের হাহাক, বন্ধ হতে চলেছে মিষ্টির দোকান সহ হোটেল , কালোবাজারি অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ধূপগুড়ি :: বৃহস্পতিবার ১২,মার্চ :: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অগ্নিমূল্য। তার সরাসরি প্রভাব এবার এসে পড়ল ধূপগুড়ির রসনা বিলাসে।

রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং তীব্র সংকটে কার্যত দিশেহারা শহরের ছোট-বড় মিষ্টির দোকান, হোটেল ও রেস্তরাঁ মালিকেরা। পরিস্থিতির চাপে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তেল সংস্থাগুলি গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে ৯৩৯ টাকা করেছে।

পাল্লা দিয়ে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকায়। কিন্তু অভিযোগ, এই বর্ধিত দামেও মিলছে না গ্যাস। অনলাইন বা অফলাইন— সব ক্ষেত্রেই বুকিং বন্ধ। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সুযোগে মাথাচাড়া দিয়েছে কালোবাজারি।

বাজারে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা এবং ঘরোয়া সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এই সংকটে ধূপগুড়ির মিষ্টি ব্যবসায়ী গৌতম ঘোষ জানান, “আজ কোনোমতে জোগাড় করে মিষ্টি তৈরি হলেও, কাল কী হবে জানি না। ডিলারদের কাছে কোনো সদুত্তর নেই।”

একই হাহাকার শহরের বিখ্যাত বিরিয়ানি দোকানগুলিতেও। দাদা-বৌদি বিরিয়ানির কর্ণধারের মতে, মজুত গ্যাসে বড়জোড় একদিন চলবে, তারপর দোকান বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই। শুধু ব্যবসাই নয়, বিপাকে সাধারণ মধ্যবিত্তও।

স্থানীয় বাসিন্দা তপন রাহা রায়ের কথায়, “বুকিং হচ্ছে না, চড়া দামে গ্যাস কেনার ক্ষমতাও নেই। বাড়িতে উনুন জ্বলছে না।” মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই অনেক ক্যাফে-রেস্তরাঁ বন্ধ হতে শুরু করেছে।

ধুপগুড়ির খাদ্যরসিকদের পাতেও এখন অনিশ্চয়তার ছায়া। শহরবাসী ও ব্যবসায়ীদের এখন একটাই প্রার্থনা— দ্রুত স্বাভাবিক হোক পরিস্থিতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + four =