নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: রামপুরহাট :: শুক্রবার ১৩,মার্চ :: প্রায় দুই বছর আগে রামপুরহাট শহরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। সেই সময় ফুটপাতে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন, তাঁদেরও সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বহু হকারের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
কেউ কেউ অস্থায়ীভাবে অন্যত্র বসে ব্যবসা করার চেষ্টা করলেও তাতে বেচাকেনা খুব একটা হত না। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনের পর দিন কষ্টের মধ্যেই দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের। তবে এবারের ঈদের আগে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন পর আবার পুরোনো জায়গাতেই নিজেদের উদ্যোগে ছোট ছোট দোকান তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেছেন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। ঈদের বাজারকে ঘিরে এখন সেই এলাকায় জমজমাট ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফলে বহু ব্যবসায়ীর মুখে আবার ফিরেছে আশার আলো।
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, এক বছরের মধ্যে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
এ নিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে একাধিকবার মহকুমা শাসকের কাছে আবেদন ও দাবি জানানো হয়েছিল, যদিও তাতে বিশেষ ফল মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই পুরোনো জায়গায় দোকান তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন হকাররা। তাঁদের আশা, ঈদের মরশুমে ভালো বেচাকেনা হলে অন্তত কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ফুটপাত হকার উচ্ছেদ যৌথ মঞ্চের সদস্য টোকন শেখ জানান, এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন তাঁরা।
সেই আন্দোলনে এলাকার বিধায়ক ডক্টর আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রামপুরহাট পৌরসভার পৌরপতি সৌমেন ভকত তাঁদের পাশে ছিলেন। এতদিন প্রতিদিন মালপত্র নিয়ে আনা-নেওয়া করে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করতে হত, যার ফলে লাভের থেকে লোকসানই বেশি হত।
সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ঈদের আগে আবার দোকান করে ব্যবসা শুরু করতে পারায় অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের জীবনে।

