কলকাতার মণ্ডপে বুর্জ খলিফা, দুর্গাপ্রতিমার প্রতীকে মমতা

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কোলকাতা :: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা বিধিনিষেধ মেনে চতুর্থী ও পঞ্চমীর দিনেই কলকাতার পূজা মণ্ডপগুলোয় ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। সরাসরি প্রবেশ করতে না পারলেও করোনাবিধি মেনে দূর থেকে প্রতিমা দেখছে তারা। বুর্জ খলিফা, করোনাসহ বিভিন্ন বিষয়কে থিম করে সাজানো হয়েছে এবারের মণ্ডপগুলো। আর বাগুইহাটির মণ্ডপে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্গাপ্রতিমার প্রতীক হিসেবে সাজানো হয়েছে।

সব সময়ই কলকাতার পূজার একটা বৈশিষ্ট্য হলো সাবেকি পূজার সঙ্গে থিম পূজার লড়াই। এবার কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে দুর্গাপূজা হচ্ছে ৩৬ হাজারের কিছু বেশি জায়গায়। নানান থিমে সেজেছে মণ্ডপ ও প্রতিমাগুলো। উত্তর কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং কলক্লাব এবার মণ্ডপ তৈরি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তৈরি বিশ্বের সর্বোচ্চ অট্টালিকা বুর্জ খলিফাকে থিম করে। ৮৩০ মিটার সুউচ্চ এই অট্টালিকার উদ্বোধন হয়েছিল ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি। এর আদলে তৈরি মণ্ডপের আলো গোটা এলাকাকে আলোকময় করে তুলেছে।

উত্তর কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং কলক্লাব এবার মণ্ডপ তৈরি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তৈরি বিশ্বের সর্বোচ্চ অট্টালিকা বুর্জ খলিফাকে থিম করে। ৮৩০ মিটার সুউচ্চ এই অট্টালিকার উদ্বোধন হয়েছিল ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি। এর আদলে তৈরি মণ্ডপের আলো গোটা এলাকাকে আলোকময় করে তুলেছে।

দক্ষিণ কলকাতার ৬৪ পল্লি এবার থিম করেছে করোনাসুরকে। হরিদেবপুরের ৪১ পল্লি থিম করেছে গ্রামবাংলাকে, আলীপুরের সর্বজনীন থিম করেছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইকে, দক্ষিণ কলকাতার ৬৬ পল্লির থিম এবার নারী শক্তি। এখানে পূজা করবেন নারী ব্রাহ্মণ। সবকিছুতেই জড়িয়ে থাকছে নারীশক্তি। বাগবাগান সর্বজনীনের থিম এবার বাংলার রেনেসাঁর ২০০ বছর। বাদামতলা আষাঢ় সংঘ থিম করেছে বাংলার পটচিত্রকে। দক্ষিণ কলকাতার বড়িশা ক্লাবের থিম এবার দেশভাগ; দেশভাগকালীন মানুষের দেশত্যাগ, ট্রেনে চড়ে দেশত্যাগ ইত্যাদিকে।

নাকতলা উদয়ন ক্লাব এবার ট্রেনে করে শরণার্থীদের দেশত্যাগের চিত্রকে থিম করেছে। কলকাতার কুমারটুলির প্রখ্যাত শিল্পী মন্টু পাল এবার বানিয়েছেন মমতাকে দুর্গাপ্রতিমার প্রতীক হিসেবে। উত্তর কলকাতার বাগুইহাটির নজরুল পার্ক উদয়ন সমিতি থিম করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে। ভবানীপুরের ৭৫ পল্লি মণ্ডপ তৈরি করেছে লোকসংস্কৃতিকে থিম করে। কলকাতার মোহাম্মদ আলি পার্ক থিম করেছে করোনার টিকাকেন্দ্রকে, কলকাতার দর্জিপাড়ার সর্বজনীনের এবারের থিম সুন্দরবনের দেবী বনবিবি। সন্তোষ মিত্র স্কয়ার এবার থিম করেছে রাজস্থানের জয়পুরের ঐতিহাসিক লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরকে।

খিদিরপুরের ৭৪ পল্লি থিম করেছে বাংলার সাবেক এক জমিদারবাড়িকে। অন্যদিকে কামারহাটির জাগরণী সংঘ থিম করেছে মমতার নতুন প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারকে। ৫০ হাজার মাটির ভাঁড় দিয়ে গড়া হয়েছে এই মণ্ডপ। এ ছাড়া কলকাতার দমদম পার্ক তরুণ দল, কলকাতার একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাব, শিয়ালদহ স্পোর্টিং ক্লাব, সিংহী পার্ক, বোস পুকুর শীতলা মন্দির, পিকনিক গার্ডেন সর্বজনীন, অজয় সংহতি, বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব, যোধপুর পার্ক সর্বজনীনসহ কলকাতার সব নামিদামী পূজা কমিটি এবারও হাজির হয়েছে নানা থিমের মণ্ডপ আর দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে।

গত বছরের মতো করোনা পরিস্থিতি এবারও বিদায় নেয়নি কলকাতাসহ গোটা রাজ্য থেকে। তবে এই প্রকোপ এখন অনেকটাই কমেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার করোনাবিধি সামান্য শিথিল করলেও দুর্গাপ্রতিমা বা মণ্ডপ দেখতে কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেই সব বিধি মেনেই পূজামণ্ডপে ভিড় করছে ভক্তরা।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গত বছরের মতো এবারও কলকাতায় বিসর্জনের দিনে প্রতিমা নিয়ে কলকাতা শহরের ঐতিহ্যবাহী কার্নিভ্যাল হবে না। বাতিল করা হয়েছে মণ্ডপ চত্বরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুধু তা–ই নয়, এবারও বাতিল করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার টাকির সীমান্ত নদী ইছামতীতে দুই বাংলার যৌথভাবে চলমান বিসর্জন অনুষ্ঠানও।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এবারও প্রতিটি পূজামণ্ডপ গড়তে হবে তিন দিক ফাঁকা রেখে। আলাদা রাখতে হবে মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ। ছোট পরিসরে প্রতিটি মণ্ডপে আয়োজন করতে হবে অঞ্জলি, সিঁদুর খেলা এবং প্রসাদ বিতরণের বিভিন্ন ব্যবস্থা।

মানতে হবে পূজা কমিটির কর্মকর্তাসহ আগত ভক্তদের দূরত্ববিধি। মণ্ডপের আশপাশে মেলা বা কোনো প্রদর্শনীর আয়োজন করা যাবে না। পূজার অঞ্জলি ভক্তদের দিতে হবে নিজেদের আনা ফুল-বেলপাতা দিয়ে। তবে বিভিন্ন পূজার উদ্বোধনে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে। পূজার পুরোহিতদের সামনে রাখতে হবে মাইক্রোফোন যেন মন্ত্র উচ্চারণ দূর থেকেও শোনা যায়। আর এ সময় কোনো ভক্তকে পুরোহিতের কাছে আসতে দেওয়া হবে না। বিসর্জনে ভিড় করা চলবে না। বিধি মেনে বিসর্জন দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 4 =