সংবাদ প্রবাহ নিউজ ডেস্ক :: ২০ শে,আগস্ট :: কোলকাতা :: শিক্ষার্থীদের অনেকেই গণিত ভীষণ ভয় পায়। অঙ্ক কষতে গিয়ে কাঁপতে থাকে হাত-পা। পরীক্ষার খাতায় গণিতে গোল্লা পাওয়ার স্মৃতি তাড়িয়ে ফেরে কারও কারও। শিক্ষার্থীদের সেই গণিতভীতি কাটাতে মজার কোনো উপায় খুঁজছিলেন শিক্ষক রবি কুমার তোলেতি। এ উপায় খুঁজতে গিয়েই মাথায় আসে অরিগ্যামি বা কাগজের ফুল-পাখি-প্রাণী বানানোর কথা। এটাই তাঁকে এনে দিয়েছে খ্যাতি। অরিগ্যামিতে কাগজের ময়ূর বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এ শিক্ষক।

রবি কুমারের বসবাস  তেলেঙ্গানা রাজ্যের সেকেন্দারাবাদ শহরে।  সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানেই শিক্ষার্থীদের গণিত পড়ান ৫৭ বছর বয়সী এই শিক্ষক। ছাত্রছাত্রীদের গণিতের ভীতি দূর করতে সৃজনশীল উপায় খুঁজতে গিয়ে অরিগ্যামির জগতে প্রবেশ করেন তিনি। কয়েক বছর আগে কাগজ ভাঁজ করে অরিগ্যামি বানানো শিখতে শুরু করেন।

রবি কুমার অরিগ্যামির মাধ্যমে কাগজ ভাঁজ করে একে একে হাজারের বেশি ময়ূর বানান। আর এটাই তাঁকে এনে দেয় স্বীকৃতি। তাঁর নাম ওঠে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। নিজ হাতে বানানো ১ হাজার ৭৭৬ অরিগ্যামি ময়ূরের প্রদর্শনী করেন সেকেন্দারাবাদ শহরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কলামন্দির মিলনায়তনে, গত বছরের ১৫ নভেম্বরে। বিশ্বে এটাই ছিল অরিগ্যামি ময়ূরের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পালা। যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে গিনেস কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ২৪ জুলাই তাঁকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। বিশ্ব রেকর্ডের সনদ প্রদান করে।

ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূর। তাই ময়ূর বানিয়ে গড়া বিশ্ব রেকর্ড রবি কুমার ভারতের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে উৎসর্গ করেছেন মাতৃভূমিকে। তিনি জানান, ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর কাগজ দিয়ে ময়ূর বানানো শুরু করেন তিনি। ১৪ নভেম্বরের মধ্যে বানিয়ে ফেলেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ কাগজের ময়ূর। এ সময় প্রতি দিন চার ঘণ্টা করে কাজ করেছেন তিনি। রবি কুমার আরও বলেন, ‘এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। তবে অরিগ্যামির প্রতি ভালোবাসা আমাকে এ কাজে সফল করেছে।’