কুড়ি মাস কাটিয়ে হেমন্তের আলতো শিশিরের ছোঁয়া মেখে খুলল স্কুল , কলেজ

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: করোনা কাল অতিক্রান্ত। আতঙ্ক কাটিয়ে, কোভিডবিধি মেনে প্রায় ২০ মাস পর ফের বাংলায় সচল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হেমন্তের আলতো শিশিরের ছোঁয়া মেখে মঙ্গলবার থেকে খুলল স্কুল , কলেজ। সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরগরম হয়ে উঠেছে পড়ুয়াদের উপস্থিতিতে। নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুলের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করে ছাত্র ছাত্রীরা।

তবে এবার স্কুলে প্রবেশ আর আগেরমতো নেই। রীতিমত সময় লাগছে তাতে। দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে, স্যানিটাইজ করে তবেই ক্লাসরুমে ঢোকার অনুমতি মিলছে। তবু দীর্ঘদিন পর প্রিয়বন্ধুদের কাছে পেয়ে আনন্দের সীমা নেই ছাত্র-ছাত্রীদের।

আপাতত নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু হয়েছে। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ছোটদের ক্লাসও চালু হবে বলে আশ্বাস রাজ্য শিক্ষা পর্ষদের।
মহামারী পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিন কয়েকের জন্য এ রাজ্যে স্কুল খোলা হয়েছিল। প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস চলছিল নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়াদের বসিয়ে ক্লাস বেশিদিন চালানোর ঝুঁকি নেয়নি সরকার। ফলে স্কুল ফের কার্যত বাড়িতেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু এবার আর তেমনটা নয়। করোনা বধে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যত চক্রব্যুহ তৈরি করে পাকাপাকিভাবেই স্কুল, কলেজের তালা খুলে গেল।

শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসও। প্রায় ২০ মাস পর ছাত্রছাত্রীরা পা রেখেছে শিক্ষাঙ্গনের উঠোনে। আবার আগের মত মুখোমুখি শিক্ষক–পড়ুয়া। বন্ধুদের সঙ্গে এক বেঞ্চে বসে পঠনপাঠনের পাশাপাশি খুনসুটিও শুরু হবে।তবে এবারের ক্লাসরুমের চেহারা খানিক ভিন্ন। এক বেঞ্চে প্রিয় বন্ধুদের গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে বসা বারণ।

কোভিডের বিপদ যে এখনও কাটেনি। মহামারী সংক্রমণ চোখ রাঙাচ্ছে এখনও। তাই শারীরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখা আবশ্যিক। এক বেঞ্চে ন্যূনতম ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বসতে হবে। আর এই এই দূরত্ববিধির হিসেব কষতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বেঞ্চ পিছু ২ জন করে পড়ুয়া বসছে।

ক্লাসে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। নাহলে স্কুলের গেট থেকেই বিদায় নিতে হবে। এ যে নিউ নর্মাল পিরিয়ড! সুতরাং, নতুন নিয়মকানুন তো মেনে চলতেই হবে। এক মহামারী যে বদলে দিয়েছে নিত্যদিনের জীবন। তবু এতদিন পর স্কুলের খোলা হাওয়ায় ফেরা বড় কম নয়। খুশি শিক্ষকরাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − two =