আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: ২৪ ঘন্টা লাইভ :: ২০শে জানুয়ারি ::চন্দননগর :: আজ হুগলির তালডাঙ্গা মোড় থেকে মানকুণ্ডুর সার্কাস মাঠ পর্যন্ত রোড শো করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী । সঙ্গে ছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং,হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি,স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ বিজেপি নেতৃত্ব । আর সেই মিছিল থেকেই উঠলো স্লোগান গলি মারো শালো কো । যা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির প্রথম সারির একাধিক সাংসদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন স্লোগান উঠল তা নিয়ে জোর সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গ বিজেপির মুখপত্র তথা নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দল কখনই এই ধরনের স্লোগানকে মান্যতা দেয় না। আগামিদিন যাতে বিজেপির মিছিলে এমন স্লোগান কেউ না ব্যবহার করে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে এদিনের মিছিলে যারা এহেন স্লোগান তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে বলে দাবি শমীকবাবুর। একই সঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, বিজেপির পতাকা হাতে কেউ এই ধরনের স্লোগান তুললে তা নিন্দাজনক।

শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোকে প্রায় ফ্লপ শোফ্লপ শো ই বলা যায় । বিশেষ করে নন্দীগ্রামের সভার পর বলা যায় চন্দননগরে শুভেন্দুর সভায় প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের ভিড় জমতে দেখা যায়। চন্দননগরের তালডাঙা থেকে মানকুণ্ডু পর্যন্ত এই এই দীর্ঘ রোড যায় লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার , বড় বাজারের মতো জায়গা দিয়ে। আর এই জায়গাগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি চন্দননগরের বুকে ভোটব্যাঙ্ক পোক্ত করার লক্ষ্যে রয়েছে।কিন্তু যে লক্ষে এই সভা তাতে যে চন্দনগরের মানুষের সে নেই তা জনসমাগম যায় ।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ জানান, হুগলিতে তৃণমূল শূণ্য হাতে ফিরবে। ‘উনিশে হাফ একুশে সাফ’ এর স্লোগান তুলে তিনি বলেন, লকেট চট্টোপাধ্যায়দের মতো নেত্রীকে হুগলি সমর্থন করেছে। আগমী দিনে বিজেপি হুগলি থেকে ভালো ফল করবে। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের লড়াই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর সাফ দাবি, মারবে যত, তত বাড়বে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘হুগলি জেলায় আমার বিশ্বাস, শূন্য হাতে ফিরতে হবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডকে। ‘

চন্দননগরের রথতলা মোড়ের কাছে সেই বিতর্কিত স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।মিছিলে হুগলির বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ স্লোগান তোলেন; “দেশ কে গাদ্দার কো, গোলী মারো শালো কো”। একই ভাবে, মঙ্গলবার কলকাতায় তৃণমূলের শান্তি মিছিল এই স্লোগান দিতে দেখা গেছিল তৃণমূল সমর্থকদের। যদিও এই স্লোগান নিয়ে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ ব্যাখ্যা দিয়েছেন; “দেশের মধ্যে যারা বিশ্বাসঘাতক, তাদের ভারতীয় সেনারা গুলি করে মারুক”। আর তাঁর এহেন মন্তব্য ঘিরেই তীব্র বিতর্কের জন্ম হয়।

নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থীপদ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ‘ওঁদের দলে এরকমভাবে হয়, কিন্তু আমাকে আটকে রাখতে পারবে না।’ এদিকে, শুভেন্দুর সঙ্গে থাকা অর্জুন সিংও এদিন সাফ জানান হাএড়া ও হুগলিতে তৃণমূল সাফ হয়ে যাবে।শুভেন্দু দাবি করেন, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ জেলা নেতৃত্বের লড়াইয়ে হুগলি থেকে বিজেপি ভালো ফল পাবে। তিনি বলেন, চন্দননগরে ২০০০ মতো ‘গ্যাপ’ ছিল। তবে সেই ‘গ্যাপ’ পূরণ করতে তিনি ও অর্জুন সিং, লকেট চট্টোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্তরা ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ততাই তাঁর আশা বিজেপি এই গ্যাপ পূরণ করতে পারবে।

তবে চন্দননগরে বিজেপির মিছিল নিয়ে মোহভঙ্গ হয়েছে । স্থানীয় বিজেপি নেতাদের আশা ছিলো বেশ কয়েক হাজার লোকের জমায়েত হবে এই জনসভায় কিন্তু দেখা গেলো মাত্র কহাজার বিজেপি সমর্থক নিয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হলো ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here