উদয় ঘোষ :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ভাতার থানার পুলিস। ধৃতের নাম সাহিরুদ্দিন চৌধুরি ওরফে রাজা। ভাতার থানার বলগনায় তার বাড়ি। সে পেশায় টোটো চালক। শুক্রবার ভোরে বলগনা বাজার এলাকা থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে।

ধর্ষণের কথা ধৃত কবুল করেছে বলে পুলিসের দাবি। ঘটনার অপর অভিযুক্ত শেখ মহম্মদ আমির ওরফে শেখ ফজল পলাতক। ভাতার হাসপাতালে ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা করিয়েছে পুলিস। তার বয়ানের ভিডিওগ্রাফি করানো হয়েছে।

এদিনই ধৃতকে বর্ধমানের পকসো আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে ৫ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। ধৃতের ৩ দিনের পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেন পকসো আদালতের বিচারক সৈয়দ নেয়াজউদ্দিন আজাদ। ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্য আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধানকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিের্দশ দিয়েছেন বিচারক। বর্ধমানের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম)-কে ছাত্রীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে পকসো আদালত।

পুলিস জানিয়েছে, বছর পনেরোর ওই ছাত্রী ভাতার থানার পাটনা গ্রামে তার মামাবাড়িতে থাকে। ৫ বছর বয়স থেকে সে মামাবাড়িতে রয়েছে। স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে সে। সাহিরুদ্দিনের সঙ্গে ছাত্রীর পরিচয় রয়েছে। দু’জনের মধ্যে মোবাইলে কথাবার্তা হত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী দোকানে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় তাকে সাহিরুদ্দিন দেখতে পায়। ছাত্রীকে সে টোটোয় চাপিয়ে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ছাত্রী তাতে রাজি হয়ে যায়। ছাত্রী টোটোয় চেপে পড়ে।

কিছুদূর যাওয়ার পর আমির টোটোয় চাপে। এরপর ছাত্রীকে নিয়ে তারা আমারুন বাজারের কাছে ক্যানেলপাড়ে মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে ছাত্রীকে দু’জনে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ধর্ষণের পর ছাত্রীকে মাঠে ফেলে রেখে পালায় তারা। সেখান থেকে কোনও রকমে আমারুন বাজারে এসে ছাত্রী ঘটনার কথা স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায়।

তাঁরা বিষয়টি ছাত্রীর মামাকে ফোন করে জানান। পুলিস ছাত্রীকে উদ্ধার করে ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার বিষয়ে ছাত্রীর মামা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে গণধর্ষণ (৩৭৬ডিএ) ও পকসো অ্যাক্টের ৬ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিস। ছাত্রীর পরনের পোশাক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here