ছাত্র এবং বহিরাগতরা নিয়ে এসে হুজ্জতির প্রতিবাদে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা

নিঃজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কাঁথি :: আবারও খবরের শিরোনামে কাঁথি দেশপ্রাণ মহাবিদ্যালয়। অধ্যক্ষের রুমে বেশকিছু ছাত্র এবং বহিরাগতরা নিয়ে এসে হুজ্জতি করে।এমনি অভিযোগে তুলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবিতে মঙ্গলবার কাঁথির দুরমুঠের দেশপ্রাণ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা কর্মবিরতি করেন এবং অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেন।

এদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবস্থান-বিক্ষোভ চলে শিক্ষক -শিক্ষাকর্মীরা। তবে অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নন্দদুলাল বারিক নামে এক শিক্ষাকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ তুলে নেন শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা। আগামী কাল বুধবার একই ইস্যুতে ফের অবস্থান-বিক্ষোভে বসবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।

শিক্ষাকর্মী বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিগত কয়েক মাস ধরে কলেজের কিছু অনিয়মিত ছাত্র ও বহিরাগত কলেজের নানাবিধ কাজে অকারণ হস্তক্ষেপ ও অমানবিক আচরণ করে চলেছে। এদিন কয়েকজন এসে অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুজ্জতি করে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতেই এদিন কর্মবিরতি এবং অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হয়েছে।

কাঁথি দেশপ্রাণ কলেজ ছাত্র সংসদ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত। দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র সংসদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। বর্তমানে সেই লড়াই প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।কলেজের অধক্ষের একাধিক দুনীতি দাবি তুলে স্বেচ্চার হয়েছিলেন। কলেজের প্রশাসক রয়েছেন কাঁথির মহকুমা শাসক আদিত্যবিক্রম মোহন হিরানি।

কাঁথি দেশপ্রাণ কলেজের অধ্যক্ষ সুবিকাশ জানা বলেন ” ছাত্রদের পক্ষ থেকে কয়েকজন কলেজের ১নম্বর রুমকে ইউনিয়ন রুম হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়ে আমার কাছে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। এদিন সেই ব্যাপারে জানতে এসে কয়েকজন আমাদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে “।

এবিষয়ে ছাত্রনেতা নিমাই দাস বলেন,” কলেজ কর্তৃপক্ষ নানা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। সেই অনিয়ম চাপা দিতেই অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এদিন আমাদের এক ছাত্রকে ডেকে তার উপর হামলা চালানো হয়। তাকে পেপার ওয়েট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ওকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করতে হয়েছে। তবে কোথাও কোনও হুজ্জতি করা হয়নি। আমরা বিষয়টি থানায় জানিয়েছি “।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × two =