উদয় ঘোষ :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: জুনিয়র ভলিবলে ফের দেশের সেরা হল বাংলার মেয়েরা। সারা প্রতিযোগিতায় তারা একটি সেটও হারেনি। বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের অরবিন্দ স্টেডিয়ামে ফাইনালে বাংলার মেয়েরা স্ট্রেট সেটে শক্তিশালী তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে জেতে। অরবিন্দ স্টেডিয়াম বাংলার মেয়েদের কাছে অত্যন্ত পয়া। এর আগে ২০১৭ সালে এই স্টেডিয়ামেই তারা শক্তিশালী সাইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এদিন খেলা দেখতে প্রচুর দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন। খেলা শুরু হতেই গ্যালারি বাংলার সমর্থনে গলা ফাটাতে থাকে। ভেঁপু বাজিয়ে বাংলার খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগান দর্শকরা। ফাইনালে ওঠার পথে তামিলনাড়ুও একটি সেটেও হারেনি। ফলে, ফাইনালে দুই দলের তুল্যমূল্য লড়াই হবে বলে আশা করা গিয়েছিল।

কিন্তু, শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলার মেয়েরা। ফাইনালে লড়াইটা ছিল তামিলনাড়ুর পাওয়ার গেমের সঙ্গে বাংলার ট্যাকটিক্যাল ভলির। ডিফেন্স এবং আক্রমণের চমৎকার মিশেল এনে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেয় বাংলার মেয়েরা।

টুর্নামেন্টে তামিলনাড়ু দলের অ্যাটাক মূল অস্ত্র ছিল। ফাইনালে বাংলার ট্যাকটিকসের কাছে তা হার মানে। তামিলনাড়ুর পাওয়ার গেমের সঙ্গে টক্কর দিতে বাংলা ডিফেন্সকে মজবুত করে প্লেসিংয়ের উপর জোর দেয়। তামিলনাড়ুর ডিফেন্সিভ ল্যাপসের সুযোগ নিয়ে বাংলার মেয়েরা প্রথম সেট থেকেই এগিয়ে যায়। প্রথম সেটে কিছুটা লড়াই হয়। বাংলার মেয়েরা বেশ কয়েকটি আনফোর্সড এরর করে। তার সুযোগ নেয় তামিলনাড়ু।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর প্রথম সেটটি বাংলা ২৫-২৩ পয়েন্টে জেতে। দ্বিতীয় সেটের শুরু থেকেই ছন্দে ফেরে বাংলার মেয়েরা। একতরফা খেলে বাংলা ২৫-১৭ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেট জিতে নেয় তারা। তৃতীয় সেটের প্রথম দিকে তামিলনাড়ু ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও জয়ের গন্ধ পাওয়া বাংলার মেয়েরা নিখুঁত প্লেসিংয়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট তুলে এনে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৫-১৮ পয়েন্টে তারা সেট ও ম্যাচ জিতে নেয়।

বাংলার শ্রেয়সী ঘোষ, প্রেরণা পাল, স্মরণিকা দেবনাথ, দেবস্মিতা মল্লিক ও কৌশিকা ঢোলে ফাইনালে দুর্দান্ত খেলে। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বাংলার মেয়েরা। তাতে যোগ দেন কোচ কৌশিক শূর ও তার সহকারী উত্তম সাহা। পরে কোচ বলেন, সেমি ফাইনালে রাজস্থানকে হারানোর পর ফাইনালে জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তামিলনাড়ুর পাওয়ার গেমকে টেক্কা দিতে ট্যাকটিক্যাল ভলি খেলেছি আমরা।

রক্ষণ এবং আক্রমণে সামঞ্জস্য এনে প্রতিপক্ষকে ফাইনালে হারিয়েছি আমরা। দলের ক্যাপ্টেন শ্রেয়সী ঘোষ বলে, দেশের সেরা হয়ে দারুণ ভালো লাগছে। এটা দলগত সংহতির জয়। আমাদের কাছে জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ম্যাচ হারলেও বাংলার মেয়েদের খেলার প্রশংসা করেন তামিলনাড়ুর কোচ কে আনন্দকুমার।

তবে, ম্যাচ চলাকালীন রেফারির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে টেকনিক্যাল এরিয়ায় তাঁকে হাত-পা ছুঁড়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, বাংলার মেয়েরা দারুণ খেলেছে। সবদিক দিয়ে ওরা আমাদের টেক্কা দিয়েছে। তবে, ফাইনালে আমাদের আক্রমণভাগ ডুবিয়েছে। তাই, এই ফল হল।

এদিন ফাইনাল খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, জেলার পুলিস সুপার কামনাশিস সেন, প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here