সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: সুন্দরবন :: দিনভোর লুকোচুরি করে রাতে শেষ হলো ‘বাঘ বন্দির খেলা’ । জলেজঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবনের মৈপিঠ উপকূল থানার ভুবনেশ্বরী পঞ্চায়েতের গৌরেরচক গ্রামে দিনভর স্নায়ুযুদ্ধ আর টানটান অপেক্ষার পর রাতে বনবিভাগের পাতা খাঁচায় বন্দিনী হলো জঙ্গলছুট বাঘিনী ।

বারুইপুর পুলিশ জেলার তরফে মৈপিঠ থানার বিরাট বাহিনী আগাগোড়া পরিস্থিতির উপর রেখেছিল কড়া নজরদারী। অতি উৎসাহী গ্রামবাসীরা অহেতুক ভিড়ে করে যাতে বনকর্মীদের কাজ ব্যাহত না করে সেদিকে পুলিশের ছিল কড়া দৃষ্টি। গোটা এলাকাকে ঘিরে রাখা হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ।

দিনের শেষে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষমেষ অক্ষত দেহে বাঘিনীকে খাঁচাবন্দি করার কাজে সফল হতে পেরে বনবিভাগের কর্তাদের সাথে সাথে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল বারুইপুর পুলিশ জেলার মৈপিঠ থানার সদস্যরাও।

মঙ্গলবার ওই এলাকার একটি ধানজমিতে ঢুকে পড়ে বাঘটি । কয়েকজন গ্রামবাসীরা ধান ক্ষেতে তাকে দেখতে পায়। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারশ বিঘের চর এলাকায়। সকালে বাঘের উপস্থিতির খবর পেয়েই বনকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় জাল দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। দিনভোর গোটা মাঠ জুড়ে শুরু হয় বাঘ বন্দির খেলা ।অবশেষে পাতা হয় খাঁচা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভাগীয় বনাধিকারিক (ডিএফও) মিলন মণ্ডল, সহকারী বিভাগীয় বনাধিকারিক (এডিএফও) অনুরাগ চৌধুরী-সহ পদস্থ আধিকারিকেরা। সন্ধ্যার পর খাঁচা পেতে তাতে টোপ দিয়ে অপেক্ষায় থাকে বনকার্তা ও পুলিশ কর্তারা । তবে খুব বেশি সময় কাটাতে হয়নি শীতের রাতে ।

রাতের দিকেই শেষপর্যন্ত টোপের টানে খাঁচায় বন্দিনী হয় সুন্দরবনের রানী । রাতেই বনবিভাগের কর্তারা তাকে নিয়ে যায় স্থানীয় ক্যাম্পে । তার শারীরিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হবে গভীর জঙ্গলে ।