উদয় ঘোষ :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: এক প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় চিকিৎসক ও নার্সর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রসবযন্ত্রণায় কাতরের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে চিকিৎসক ও নার্সরা মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন। বারবার ডাকার পরও সাড়া মেলেনি। বেডেই গর্ভবতীর প্রসব হয়ে যায়। তারপরও নজর দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের বেড থেকে সদ্যোজাত পড়ে যায়।

এনিয়ে বর্ধমান থানায় প্রসূতির পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ কুণালকান্তি দে বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে পুলিসের কাছ থেকে জানতে পারি। তবে, শিশুটি এখন ভালো আছে। আমাদের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তাতে গাফিলতির বিষয়টি উঠে আসলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নাের্সর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে নাদনঘাট থানার অর্জুনপুকুরের আমিনা শেখ প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রসবযন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বারবার ডাকার পরও চিকিৎসক ও নার্সরা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। প্রসূতির চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। চিকিৎসক ও নার্সরা মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন।

কেউ না থাকায় আমিনা হাসপাতালের বেডেই প্রসব করেন। তারপরও প্রসূতি এবং সদ্যোজাতর দিকে কেউ ফিরে তাকায় নি। সদ্যোজাত বেড থেকে পড়ে গিয়ে জখম হয়। তারপর টনক নড়ে চিকিৎসক ও নার্সদের। সদ্যোজাতকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সদ্যোজাতর চিকিৎসা চলছে।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইলে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ কোনও নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার হাসপাতালে এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে বিবাদ হয়েছে চিকিৎসক ও নার্সদের। বছর দু’য়েক আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের এবং ওয়াের্ড মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। যদিও তারপরও অবস্থার যে পরিবর্তন হয়নি, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here