উদয় ঘোষ :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: বাদামী শোষকের পর বৃষ্টি। এই দুইয়ের ফলে চাষিদের মাথায় হাত। অসময়ের বৃষ্টির ফলে শুধু ধান নয় অন্যান্য চাষের প্রভাব পড়েছে। ধান সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছে চাষিরা। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্লকে ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

জেলার বেশকিছু জায়গায় ধান কাটা হলেও ফসল মাঠেই পড়ে থাকার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে। পাশপাশি, যেসব জমির ধান কাটা হয়নি সেরকম কিছু ব্লকে বৃষ্টিপাতের ফলে জমির ধান জলের তলায় ডুবে গিয়েছে। এমনকি আলু চাষেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমান বেশি ছিল। বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রায়না এক ও দুই ব্লকে। সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে গলসী এলাকায়। জেলার যার মধ্যে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বৃষ্টির ফলে চাষি ধান কাটতে পারে নি। আর ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে কাটা ধান জলে পড়ে আছে। ফলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস মেলার পর ধান কাটার কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির ফসল কাটা সম্ভব হয়নি। জমিতে থাকা ধানের মধ্যে ৪০ হাজার হেক্টর জমির ধান জলে ডুবে গিয়েছে।

এছাড়া চলতি মরশুমে ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। তারমধ্যে এবছর আলুর বীজ পোতা হয়েছে ৪১ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে জলমগ্ন হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি। পেঁয়াজ চাষেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হলেও পেঁয়াজের বীজ বসানো হয় ৩৮২০ হেক্টর জমিতে।

কালনা ব্লকে পিয়াজের ক্ষতি হয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ২৯৬০ হেক্টর পিঁয়াজের জমি। জলমগ্ন জমিতে ১৭ হাজার হেক্টর জমির সরষে চাষের ক্ষতি হয়েছে। সোমবার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান জেলাপরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া সহ কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা।

জেলাপরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানান, “আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক রিপোর্ট কৃষি দপ্তর তৈরি করছে। যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে তাতে করে একজন চাষিও যাতে শস্য বীমার আওতার বাইরে না থাকে সেবিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আলুর জন্য ৩১ ডিসম্বর পর্যন্ত শস্যবীমা করা যাবে।“ “

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here