বারুইপুরে করোনা স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ব বিধি কার্যত শিকেয় তুলে মাস্ক বিহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষ। নেই কোনো পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি।

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: গোটা দেশ তথা রাজ্যে আছড়ে পড়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে বিধি নিষেধ। করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি কলকাতা লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাতে। করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ব্যস্ততম বাজার গুলি সপ্তাহে দুদিন করে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে করোনা সংক্রমণ রুখতে চলছে সতর্কতা মূলক প্রচার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত শুরু হয়েছে আংশিক লকডাউন। সকাল থেকে বারুইপুর পৌর ও পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন বাজার গুলি বন্ধের ছবি ধরা পড়েছে। অন্যদিকে সেই বারুইপুর মহকুমার এর মধ্যে বিধি ভাঙার ছবি ধরা পড়ল।

বারুইপুরের শিখরবলী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কল্যাণপুর স্কুল মাঠে ৭৩ তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে মেলা। বুধবার থেকে এই “মৈত্রী”মেলা চলবে টানা ১০ দিন। দেখা গেল প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় মেলায় ভিড় জমাতে হাজার মানুষজনকে । চলছে দেদার কেনাকাটা ও আনন্দ। কিন্তু করোনার এই চোখ রাঙানিতে কারোর মুখে মাস্ক নেই। বালাই নেই সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার কথা।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মেলার আয়োজকরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে এলাকার কচিকাঁচারা। প্রশাসনের নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুরু হল মৈত্রী মেলা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মনে করছে, এই মৈত্রী মেলাতে করতে গিয়ে আবারো এলাকায় করোনা সংক্রমনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যেই, করোনা সংক্রমনের উপর লাগাম টানতে পেরেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ।

জেলার মধ্যে বেশি করোনা আক্রান্ত কলকাতা লাগোয়া সোনারপুর ও বারুইপুর এলাকায় । মৈত্রী মেলা করতে গিয়ে কয়েক হাজার জীবন আবার সংকটের মধ্যে। তাই মৈত্রী মেলাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে গ্রামবাসীরা । এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বুধবার থেকে কল্যাণপুর স্কুল মাঠে যে মেলা শুরু হয়েছে, সেই মেলাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে।

করোনা স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ব বিধি কার্যত শিকেয় তুলে মাস্ক বিহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষ। নেই কোনো পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি। যেখানে মানুষ মাস্ক ছাড়া রাস্তায় দেখা গেলে মিলছে পুলিশি ধমক ও জরিমানা সেক্ষেত্রে, এই “মৈত্রী “মেলাতে আসা বহু মানুষের মুখে মাস্ক নেই। তাহলে মেলাতে কি করোনা হানা হয় না। শত শত মানুষের জীবন বাজি রেখে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রশাসনের কার্যত নাকের ডগায় এইরকম বিধি ভাঙার ছবি কার্যত কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ রুখতে সাধারণ মানুষ সহ প্রশাসনকে আরো কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে নাহলে করোনার মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =