বৌদ্ধ সন্যাসীর নিজেদের দেহকে প্রাণ থাকতেই মমি বানাতেন – তাহলে কি গুমনামী বাবা (নেতাজি !)ও এই প্রক্রিয়াতেই চেষ্টা করেছিলেন !

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদপ্রবাহ টিভি :: ১৬ই,জানুয়ারি :: কোলকাতা :: সেই কোন আদিকাল থেকেই মৃতদেহকে মমি করার প্রক্রিয়া চালু ছিল মিশরে । কিন্তু সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়ে আমাদের সামনে উঠে এলো জাপানের বৌদ্ধ সন্যাসীদের কথা । বুদ্ধধর্মে তন্ত্রের একটা বিশেষ জায়গা আছে । এবং সেই তন্ত্র সাধনা বেশ কার্যকর । অনেকেই জানেননা যে আমাদের প্রিয় নেতাজি কিন্তু একটা সময় এই বৌদ্ধধর্মের তন্ত্র সাধনায় একদম উচ্চ মর্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন ।

আমরা “গুমনামী বাবাই নেতাজি” এই তথ্যেই বিশ্বাস করি ।

নেতাজির একজন সধারণ গবেষক হিসাবে আমি যতটা জেনেছি যে গুমনামী বাবা এই প্রক্রিয়াতেই ধ্যানস্থ হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন । আমাদের সামনে জাপানের বৌদ্ধ সন্যাসীদের এই প্রক্রিয়া কিন্তু আমাদের গুমনামী বাবার তত্ত্বকেই খানিকটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিলো ।

(part of the Report of Vishnu Sahay Commission )- The Sahai Commission report, in its conclusion, has written that Gumnami Baba was a brilliant man and people like him are very rare, who prefer death instead of revealing the secret of their identity. But his funeral was organized in such a way that only 13 persons could attend it. The identity of Baba Baba still remains anonymous.

কীভাবে নিজেদের দেহকে মমিতে পরিণত করতেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা ? সে পদ্ধতি কম রোমাঞ্চকর নয়। এর জন্য যে ডায়েট চার্ট তাঁদের মেনে চলতে হত, তা রীতিমতো কঠোর। আগেই বলা হয়েছে, সেই পদ্ধতি বেশ ধীরগতির। প্রথমে অন্য সমস্ত ধরনের খাওয়াদাওয়া ছেড়ে কেবল জল, ফলমূল, বাদাম – এই সব খেতেন তাঁরা।

এর ফলে মেদ ঝরিয়ে ক্রমেই রোগা হয়ে যেত শরীর। পরের ধাপে সেসবও খাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। তখন কেবল পাইন গাছের শিকড় ও ছালবাকল। আর সেই সঙ্গে এক বিশেষ ধরনের চা। যা তৈরি হত বার্নিশ গাছের বিষাক্ত রস দিয়ে। এই চা সন্ন্যাসীদের শরীরকে যে কোনও রকম জীবাণুর সংস্রব থেকে মুক্তি দিত। মৃত্যুর পরেও সেখানে ঘেঁষতে পারত না ম্যাগট। ফলে দেহও পচত না।

শেষে যখন শরীর একেবারে মৃতপ্রায়, তখন সেই শরীরকে মাটির নিচে এক কক্ষে রেখে দেওয়া হত। সেই কক্ষের ভিতরেই পদ্মাসনে সমাধিস্থ হয়ে থাকতেন মমি হতে যাওয়া সন্ন্যাসী। একটি বাঁশের চোঙার সাহায্যে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেন তিনি। ওই কক্ষে থাকত একটি ঘণ্টা। রোজ সেই ঘণ্টা বাজিয়ে নিজের বেঁচে থাকার সংকেত দিতেন সন্ন্যাসী। একসময় আর ঘণ্টা বাজত না। তখন সবাই বুঝতে পারত, তিনি আর বেঁচে নেই।

এরপর সেই বাঁশের চোঙা সরিয়ে নিয়ে কক্ষের মুখ বন্ধ রাখা হত এক হাজার দিনের জন্য। এক হাজার দিনের পরে দেখা হত সেই সন্ন্যাসী মমি হয়ে গিয়েছেন কিনা। পদ্ধতি সফল হলে সেই দেহ তুলে এনে তাঁকে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হত। তবে সবসময় প্রক্রিয়া সফল হত না। দেখা যেত, কোনও কোনও দেহে পচন ধরেছে। সেই দেহগুলি কবর দিয়ে দেওয়া হত। দেখা গিয়েছে, এঁদের সংখ্যাই বেশি।তন্ত্রের প্রক্রিয়া আমাদের বিশ্বাসের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে কিন্তু তার জন্য দরকার প্রকৃত গবেষণার ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 4 =