সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: জয়নগর :: একেই বলে নসিব । রাতারাতি ঘুরে গেল ভাগ্যের চাকা । হটাৎ করে একরাতেই কোটিপতি হয়ে গেল জয়নগরের এক ছাপোষা ব্যক্তি । লটারির টিকিট কেটে এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার ঘরে তুলল জয়নগর মজিলপুর পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাঁসারি পাড়ার ৬১ বছরের প্রবীর কুমার প্রামানিক ।

এলাকায় বাপী মাস্টার নামে পরিচিত এই ছাপোষা মানুষটি ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জয়নগর শ্রীকৃষ্ণ এফ.পি স্কুলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছে । তার পর থেকে ঐ স্কুলে স্থায়ী চাকরি না পেয়ে জয়নগর-কুলতলি রুটের বাস, ট্রেকার, ম্যাজিক ভ্যান ইউনিয়নের স্টার্টার হিসাবে কাজে যোগ দেয় ।

গত দুবছর ধরে ভাগ্য ফেরানোর নেশায় নিয়মিত লটারির টিকিট কাটত । গত বুধবার সন্ধায় নাগালান্ড সরকারের ডিয়ার বাম্পার লটারির টিকিট কাটে । পরদিনই প্রথম পুরস্কার এক কোটি ওই টিকিটে লেগে যায়।আর এই খবর জানাজানি হতে তার বাড়িতে বহু মানুষ ভিড় করে হটাৎ করে কোটিপতি হয়ে যাওয়া মানুষটাকে দেখার জন্য ।

টিনের চালার এক চিলতে ঘরের উঠোনে দাঁড়িয়ে প্রবীরবাবু জানায় খুব আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করে আসছি । তবু্ও ভাগ্য বদলানোর নেশায় গত দুবছর ধরে লটারির টিকিট কেটে আসছি । মাঝে মধ্যে অল্পবিস্তর টাকাও পেয়েছি লটারিতে । কিন্তু একসঙ্গে এত টাকা পাবো কোনো দিন কল্পনাও করিনি। তবে আমি এই টাকা দিয়ে অসম্পূর্ণ থাকা বাড়িটা আগে করবো।

তারপরে বাড়ির ও পরিবারের সমস্ত ইচ্ছা পূরন করে সামাজিক কাজে বাকি টাকাটা খরচ করবো ।জয়নগর কুলতলি বাস, ট্রেকার, ম্যাজিক ইউনিয়নের পরিবহন ব্যবস্থায় ও পৌরবাসীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজে ব্যবহার করার জন্য একটা এ্যামবুলেন্স কেনার ইচ্ছে আছে । তার ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী আরতিদেবী বলে এবার আমাদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে। আমি খুব আনন্দিত । ও এই টাকায় সাধারন মানুষের পাশে থেকে যে কাজ করবে আমি তার জন্য সবসময় ওর পাশে থাকবো ।

অন্যদিকে প্রবীর বাবুর নিরাপত্তার কথা ভেবে জয়নগর থানার আই.সি অতনু সাঁতরা তাকে নিরাপত্তার কথা বললেও এ ধরনের কোনো সুবিধা নিতে রাজি হয়নি । ইতিমধ্যেই তার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত টিকিটটি লটারির দোকানে জমা করেছে । আর এখন শুধু অপেক্ষা পুরস্কৃত টাকা হাতে পেয়ে নিজের জীবনের স্বপ্ন গুলো পূরণ করার ।।