উদয় ঘোষ :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: ভেজাল সর্ষের তেলের কারবারের পর্দা ফাঁস করল মেমারি থানার পুলিস। ভেজাল সর্ষের তেল তৈরি করে তা খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মেমারি থানার পুলিস। ধৃতদের নাম গোবিন্দ সরকার, অসীম মিত্র ও পঙ্কজ সিং। মেমারি থানার ছিনুই গ্রামে গোবিন্দ ও অসীমের বাড়ি। পঙ্কজের বাড়ি হাওড়ার বালি থানার বেলুড় মঠ এলাকায়।

ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ ভেজাল সর্ষের তেল, খালি তেলের টিন, রাসায়নিক, রং ও বিভিন্ন কোম্পানির তেলের লেবেল পেয়েছে। রাইস অয়েল ভর্তি একটি ট্যাঙ্কারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ধৃতদের ব্যবহৃত বাইকটিও পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনার বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিস।

বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। আরও ভেজাল তেল উদ্ধারের জন্য এবং কারবারের বিষয়ে বিশদে জানতে ধৃতদের ১০দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। ধৃতদের সাতদিনের পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেন সিজেএম।

পুলিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ছিনুইয়ের শীতলাতলায় একটি তেলের ট্যাঙ্কার ও বাইক দেখতে পায় পুলিস। সেখানে ওই তিনজন দাঁড়িয়ে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় পুলিস তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তেলের ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে পুলিসকে নানা তথ্য দেয় তারা। এতে পুলিসের সন্দেহ বাড়ে।

তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদে রাইস অয়েলে রাসায়নিক ও রং মিশিয়ে তা সর্ষের তেল বলে বাজারে বিক্রি করার কথা জানায় তারা। এরপরই পুলিস তেলের ট্যাঙ্কার ও বাইকটিকে বা‌জেয়াপ্ত করে।

তাদের নিয়ে শীতলাতলার একটি গোডাউনে হানা দেয় পুলিস। সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ ভেজাল সর্ষের তেল উদ্ধার হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ফাঁকা তেলের টিন, টিনের সিল, তেলের ঝাঁঝ বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক ও কাঠের পালিশের রং বাজেয়াপ্ত করে পুলিস।

বিভিন্ন কোম্পানির লেবেলও বা‌জেয়াপ্ত হয় গোডাউন থেকে। মেমারি থানার এক অফিসার বলেন, ধৃতরা রাইস অয়েলে রং, রাসায়নিক ব্যবহার করে সর্ষের তেল হিসেবে খোলাবাজারে বিক্রি করে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।

বাজেয়াপ্ত হওয়া রাসায়নিক, রং ও তেল পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। ধৃতরা কোথা থেকে রাইস অয়েল আনত এবং ভেজাল সের্ষর তেল কোথায় বিক্রি করত তা জানার চেষ্টা করা হবে। চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তাও জানার চেষ্টা করা হবে। সেকারণে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গোডাউনের মালিকের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here