রাজ্যে ক্ষমতা পেলে রাইটার্সেই ফিরবে রাজ্য সচিবালয় : বিজেপি

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ্প্রবাহ :: ১৯শে মার্চ :: কোলকাতা ::

বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা পেলে রাইটার্স ফিরবে রাইটার্সেই 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে এবার কোন দল ক্ষমতায় আসছে, তা নিশ্চিত নয়। তবে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা এ ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এবার তীব্র লড়াই হবে বিরোধী দল বিজেপির। লড়াইয়ে জিততে পারে তৃণমূল। অবশ্য সমীক্ষা পাত্তা না দিয়ে বিজেপির দাবি, তারাই ক্ষমতায় আসছে। দুই শতাধিক আসনে জিতে সরকার গড়বে তারা।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য শাখার মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য কলকাতায় এক সংবাদ সন্মেলনে জানিয়ে দেন, বিজেপি ক্ষমতায় গেলে রাজ্য সচিবালয় নবান্নর নীল-সাদা বাড়ি আবার আগের ঐতিহাসিক লাল বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। লাল বাড়ি হলো রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ।

তবে এসব কথায় আমল দিচ্ছে না তৃণমূল। তারা পাল্টা বলছে, বিজেপি অলীক স্বপ্ন দেখছে। তারা কোনো দিন এ বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলা থাকবে তৃণমূলের হাতেই। তৃতীয়বারের মতো এবারও এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।

বিজেপিও কম নয়। দলটির নেতারা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন, এ রাজ্যের মানুষ এবার মনস্থির করে ফেলেছে, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে। বিজেপিই ২০২১ সালে এ বাংলায় ক্ষমতায় এসে রাজ্যকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করবে।ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ছিল কলকাতার প্রাণকেন্দ্র বিবাদী বাগের লাল বাড়ি বা রাইটার্স বিল্ডিং। ২০১১ সালে মমতা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন। এরপর রাইটার্স বিল্ডিংয়ের রাজ্য সচিবালয় সরিয়ে হাওড়ার শিবপুরের মন্দিরতলা এলাকায় এইচআরবিসি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর। ভবনের নাম দেওয়া হয় নবান্ন। মমতা এইচআরবিসি ভবনকে নীল-সাদা ভবনে রূপ দেন। বাম ফ্রন্ট আমলে ১৪তলা এ ভবন তৈরি হয়েছিল পোশাক পার্ক গড়ার জন্য।

 

এদিকে শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষণাকে অলীক বলে মন্তব্য করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের মুখপাত্র সৌগত রায় বলেছেন, আগে বিজেপি ভোটে জিতুক। তারপর এসব পরিকল্পনা করুক। বিজেপি তো ভোটে জিততে পারবে না। তাই অলীক স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। শমীক অবশ্য এ কথাও বলেছেন, বাঙালির মন এখনো ছুঁয়ে আছে ঐতিহাসিক ওই লাল বাড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দিকে।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে আছে লাল বাড়িটি। রাজ্যের বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী এই বাড়ি। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশ-বিদেশের নেতার পদধূলি পড়েছে এই লাল বাড়িতে। সর্বশেষ সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনও এসেছিলেন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে।

ব্রিটিশ ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কর্মরত করণিক বা রাইটার্সদের জন্য ১৬৩০ সালে তৈরি করা হয়েছিল এই বাড়ি। ১৬৯৫ সালের ২৫ জুন বাড়িটিকে ঘোষণা করা হয়েছিল রাইটার্স বিল্ডিং হিসেবে। ২ দশমিক ৮ একর জমির ওপর প্রথম নির্মিত হয়েছিল ভবনটি। এখন পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ একরে। সবশেষ এখানে ছয় হাজার কর্মী কাজ করতেন।

এ বাড়ির প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার আগে এ বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, অজয় কুমার মুখার্জি, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতিবসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *