উদয় ঘোষ :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: বাদদাতা: রায়না থানার দেরিয়াপুরের মাঠ থেকে শনিবার একটি কালো ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ভোজালি উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ব্যাগ উদ্ধারের দু’দিন কেটে যাওয়ার পরেও রায়নার দেরিয়াপুরে ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলের খুনের ঘটনায় অস্ত্রগুলি ব্যবহার হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। তবে, এই ঘটনার সঙ্গে ব্যবসায়ী খুনের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।

এদিকে, ব্যবসায়ী খুনের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের অনুমান। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অকুস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি কালো রংয়ের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় চাষিরা। তাঁরা ব্যাগটি খুলে দেখেন ভিতরে দু’টি পিস্তল, পাঁচটি কার্তুজ, রক্তের দাগ থাকা একটি ভোজালি ও চাকু রয়েছে। আর রয়েছে দামি সংস্থার তৈরি জামা ও প্যান্ট।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসডিপিও(বর্ধমান সদর) আমিনুল ইসলাম খান ব্যাগটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন অবশ্য এবিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তবে পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের প্রাথমিক অনুমান এই ব্যাগের সঙ্গে ব্যবসায়ী সব্যসাচী খুনের যোগ আছে। ছ’রাউণ্ড গুলির মধ্যে এক রাউন্ড গুলি সব্যসাচীকে খুনের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। বাকি পাঁচ রাউণ্ড গুলি দুষ্কৃতীরা জলে ফেলে দেয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়না থেকে জামালপুর যাওয়ার রাস্তায় সাঁকটিয়া মোড় থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা ধরে পাঁচ কিলোমিটার গেলেই দেরিয়াপুর। ওই সাঁকটিয়া মোড় থেকে জামালপুর যাওয়ার রাস্তায় উচিতপুরের আগে নয়ানজুলিতে শনিবার বিকেলে কালো রংয়ের একটি ব্যাগ দেখতে পান চাষিরা।

স্থানীয় মুগরা পঞ্চায়েতের এক সদস্য বলেন, ব্যাগের ভিতর অস্ত্র-ভোজালি দেখে চাষিরা ভয় পেয়ে আমাদেরকে জানান। আমরাই পুলিসে খবর দিয়েছিলাম। জেলা পুলিশের দাবি, সব্যসাচীর সঙ্গে থাকা তিন সঙ্গীর ব্যাগ দেরিয়াপুরের ওই বিশাল বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু, সব্যসাচীর কোনও ব্যাগ পুলিস খুঁজে পায়নি। ব্যাগের ভিতর দামি জামা-প্যান্ট দেখে পুলিসের সন্দেহ, ব্যাগটি সব্যসাচীরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য পুলিস ওই ব্যাগটিকে সব্যসাচীর বাবা, মা ও স্ত্রীকে দেখিয়ে শনাক্ত করতে চাইছে। আবার ভোজালিতে রক্তের ছাপ বা পিস্তলে কার্তুজের গন্ধ দেখে  তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, সব্যসাচী খুনে ওই অস্ত্র ব্যবহার হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এসডিপিও বলেন, দেরিয়াপুরের অকুস্থল থেকে কিছুটা দূরে একটি ব্যাগের ভিতর কিছু অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি কীভাবে রাস্তার ধারে নয়ানজুলিতে পাওয়া গেল তা জানা যায়নি। প্রয়োজনের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। এদিকে, রবিবার সিআইডির চার সদস্যের টিম সব্যসাচী মণ্ডলের দেরিয়াপুরের বাড়িতে যান। সেখানে থাকা পরিবারের দুই মহিলা সদস্যাকে শুক্রবার রাতের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী অফিসাররা। তারপর গ্রামে যান ফরেনসিক টিমের সদস্যরা। তাঁরা ঘটনাস্থল, সিঁড়ি ও ছাদের বিভিন্ন জায়গার নমুনা সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক টিম। টিমের সঙ্গে ছিলেন এসডিপিও( দক্ষিণ) আমিরুল ইসলাম খান।

মৃত ব্যবসায়ীর বাবা, শিবপুরের বাসিন্দা দেবকুমার মণ্ডল তাঁর ছোটভাই গৌরহরি মণ্ডলের পরিবারের বিরুদ্ধে রায়না থানায় অভিযোগ করেছেন। তিনি পুলিসকে জানিয়েছেন, তাঁর পৈতৃকবাড়ি দেরিয়াপুরে ছেলের খুনের ব্যাপারে ‘কাছের জন’ রয়েছে। এই ‘কাছের জনকে’ খুঁজে বের করতেই সোমবার বিকেলে তদন্তকারী দল, থানার আধিকারিক, বিভিন্ন শাখার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিস সুপার কামনাশিস সেন। তদন্তকারীরা জানান, মৃত ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠদের মতো দোকানের কর্মচারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হাওড়ার শিবপুরের বাড়িতে যে সব দুষ্কৃতী হামলা চালিয়েছিল তাঁরা এই ঘটনায় জড়িত কি না কিংবা প্রমোটার-সংক্রান্ত কোনও বিবাদের জেরে সব্যসাচী খুন হল কি না, সেটাও তদন্তকারীরা খোঁজ নিচ্ছেন।

পুলিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে খুনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব্যসাচীর এক সঙ্গী ক্রমাগত পুলিসকে ভুল তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুলিসের দাবি, রবিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ‘সঙ্গী’ জানিয়েছে, আততায়ীরা ‘থানা থেকে আসছি’ বলে ভিতরে ঢোকে। সে তখন নীচের বারান্দায় ফোনে ব্যস্ত ছিল। আততায়ীরা তার পিছনে ধারালো অস্ত্র ধরে দোতলায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সব্যসাচী নীচের বারান্দায় এলে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। যদিও ওই সঙ্গীর কথা তদন্তকারীরা বিশ্বাস করতে পারছে না। ঘটনার পরেই ওই ‘সঙ্গী’র হারিয়ে যাওয়া মোবাইল পুলিস রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছিল। প্রতিটি কথায় এত ‘অসঙ্গতি’ থাকায় পুলিসের ওই সঙ্গীর উপর সন্দেহ জোরালো হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here