সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: সুন্দরবন :: এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আবারও সুন্দরবনের খাঁড়িতে দক্ষিণ রায়ের হামলায় গুরুতর জখম গুরুতর জখম হলো এক কাঁকড়া শিকারি । সঙ্গীদের সম্মুখ সমরে লড়াই করে কোনওমতে প্রাণে বেঁচে ফিরে এলো গৌরহরি মাইতি । ঘটনাটি ঘটেছে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের হাউতি দ্বীপের জঙ্গল লাগোয়া নদীর খাঁড়িতে ।

শনিবার গোসাবার সোনাগাঁও থেকে গৌরহরি মাইতি সহ পাঁচ জনের একটি কাঁকড়া শিকারির দল সুন্দরবন নদীর খাড়িতে কাঁকড়া ধরতে পাড়ি দেয় । সন্ধ্যার একটু পরে জঙ্গল লাগোয়া খাঁড়িতে নৌকা নোঙর করে তারা কাঁকড়া ধরছিল । সেই সময় গভীর জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে আসে । কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে গৌরহরির উপর। গালে , কপালে মাথায় থাবা বসিয়ে দেওয়ার পর টানতে-টানতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ।

অতর্কিত আক্রমণে দিগ্বিদিক জ্ঞান শুন্য হয়ে পড়ে সঙ্গীসাথীরা । কিছু সময়ের মধ্যে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে নৌকায় থাকা লাঠি , শিক ও বৈঠা নিয়ে বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সঙ্গীকে ছাড়ানোর জন্য । বনের বেতাজ বাদশার সাথে সম্মুখ সমরে চলে জীবন মরণ লড়াই । বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চলার পর ভাব বেগতিক বুঝে রণে ভঙ্গ দেয় বাঘ । হুঙ্কার করতে করতে শিকার ছেড়ে গভীর জঙ্গলে গাঢাক দেয় সে।

এরপর খবর পেয়ে স্থানীয় সজনেখালি রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা গুরুতর জখম অবস্থায় ওই কাঁকড়া শিকারীকে উদ্ধার করে গোসাবা হাসপাতালে নিয়ে আসে । সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়ায় রাতেই তাকে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসকরা।

প্রসঙ্গত, ঠিক এক সপ্তাহ আগে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ৭ নম্বর পীরখালি জঙ্গলে বাঘের আক্রমণ গুরুতর জখম হয় এক কাঁকড়া শিকারি । গোসাবা ব্লকের বালি ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বিজয়নগর গ্রামের আশীষ দাস চারজনের সঙ্গে নৌকায় সুন্দরবন জঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল কাঁকড়া ধরার জন্য । পীরখালি ৭ নম্বর জঙ্গল লাগোয়া নদীর খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরার

একটি বাঘ আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে আশীস দাসের উপর । তাকে টানতে টানতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাঘের মুখ থেকে সঙ্গীকে ফিরিয়ে আনতে বাকি সঙ্গীরা কাঁকড়া ধরার শিক আর নৌকার বৈঠা নিয়ে বাঘের গতিপথ আটকে দেয়।শুরু হয় বাঘে-মানুষে তুমুল যুদ্ধ। শিকার ছাড়তে নারাজ বাঘ তার ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি ধারণ করে হুঙ্কার করতে থাকে । শেষমেষ বেগতিক বাঘ বুঝে শিকার ছেড়ে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

এক মুহূর্ত দেরী না করে সঙ্গীকে উদ্ধার করে নৌকায় তোলে তারা। দ্রুত নৌকার হাল বেয়ে গোসাবায় পৌঁছায় মৎস্যজীবীদের দলটি। সেখানে গোসাবা ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। ফলে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বার বার দক্ষিণ রায়ের হামলায় তাই এখন রীতিমতো আতঙ্কে সুন্দরবনের নদী খাঁড়িতে জীবন জীবিকার টানে যাওয়া মৎস্যজীবী থেকে কাঁকড়া শিকারিরা ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here