নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: হায়দ্রাবাদ :: শুক্রবার ১৭,জুলাই :: অন্ধ্রপ্রদেশে আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
চলতি বছরের ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে মোট ১২ জনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সহ-রোগে (Comorbidities) ভোগা চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমিশনার জি. বীরাপাণ্ডিয়ান জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে তিন জন কড়াপা জেলার এবং একজন কাকিনাডা জেলার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, আক্রান্তরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন এবং এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ক্লাস্টার সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি।
সরকার জানিয়েছে, সংক্রমণের প্রকৃতি ও ভাইরাসের ধরন নির্ধারণ করতে পাঁচটি নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)-তে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে কয়েকজন রোগী হোম আইসোলেশনে রয়েছেন, কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কিছু রোগী ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই প্রতিবেশী রাজ্যগুলিও সতর্কতা বাড়াতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বড় ধর্মীয় সমাবেশ এবং জনসমাগমের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ না থাকলেও প্রবীণ নাগরিক, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা এবং ভিড় এড়িয়ে চলার মতো সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছিটেফোঁটা কোভিড সংক্রমণের খবর মিললেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতা ও দ্রুত নজরদারিই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

