আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: রবিবার ৩১,মে :: আগামীকাল রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতার লোকভবনে। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, এবারের মন্ত্রিসভায় একযোগে প্রায় ৩৫ জন নতুন মুখকে স্থান দেওয়া হতে পারে।
ফলে শাসকদলের অন্দরে যেমন উৎসাহ, তেমনি সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল এবং বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে এবার মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল হতে পারে।
তরুণ নেতৃত্ব, মহিলা প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু ও তফসিলি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার একাধিক বিধায়ক মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রয়েছেন।
প্রথম সারির বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ বিধায়কের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা নতুন প্রজন্মের নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সেচ, পঞ্চায়েত, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প দপ্তরে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা প্রবল।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বও পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে গতি আনার পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে চাইছে সরকার।
লোকভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যপালের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন। ফলে আগামীকাল শপথমঞ্চেই প্রকাশ্যে আসবে নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ চিত্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই মন্ত্রিসভা আগামী কয়েক বছরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই কারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী হচ্ছেন, সেদিকে নজর শুধু রাজ্যের নয়, জাতীয় রাজনৈতিক মহলেরও।

