নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি/কলকাতা :: শুক্রবার ১৫,মে :: শুক্রবার: দলবদলের রাজনীতিতে আপাতত ব্রেক টানতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী তিন মাস কোনও নতুন নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে দলে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সুনীল বনসল ।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আপাতত “সংগঠন আগে, সম্প্রসারণ পরে” নীতিতে হাঁটতে চাইছে। সেই কারণেই নতুন যোগদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে এক সাংগঠনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুনীল বনসল বলেন, “আগামী তিন মাস আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা।
শুধুমাত্র অন্য দল থেকে লোক নিয়ে আসলেই দল মজবুত হয় না। কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সুনীল বনসলের এই মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। কারণ, গত কয়েক মাস ধরেই শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে আলোচনা চলছিল।
বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা থেকে বহু প্রভাবশালী মুখ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়েছিল।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই নির্দেশে আপাতত সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি পড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মতে, লাগাতার দলবদলের ফলে পুরনো কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল।
অনেক জায়গায় “বহিরাগত বনাম পুরনো কর্মী” দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে এসেছে। সেই কারণেই সংগঠন গোছাতে চাইছে কেন্দ্র।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী তিন মাস বিজেপি বিশেষভাবে বুথ ও মণ্ডল সংগঠনের ওপর জোর দেবে। প্রত্যেক রাজ্যে সাংগঠনিক পর্যালোচনা, সদস্য সংগ্রহ অভিযান এবং কর্মী প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা ও দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিজেপি নতুন কৌশল নিতে চাইছে বলেও সূত্রের দাবি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতা ভাঙিয়ে এনে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়; শক্তিশালী তৃণমূল স্তরের সংগঠনই আসল শক্তি।
বিজেপির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের দাবি, “দলে অতিরিক্ত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং টিকিট বণ্টন নিয়ে ক্ষোভের কারণেই আপাতত যোগদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি।”
যদিও বিজেপির তরফে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আগামী কয়েক মাস বিজেপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে আরও মজবুত করার দিকে নজর দেবে। ফলে আপাতত দলবদলের চেয়ে সংগঠন পুনর্গঠনই যে গেরুয়া শিবিরের প্রধান অগ্রাধিকার, সুনীল বনসলের মন্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে

