নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ক্যানিং :: বৃহস্পতিবার ২,জুলাই :: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে ফের শোরগোল। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে বৃহস্পতিবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এলাকায় ঘোরানো হল। তাঁকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমালেন অসংখ্য মানুষ।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান-কে যেভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে ও হাফপ্যান্ট পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়েছিল, শওকত মোল্লার ক্ষেত্রে তেমন দৃশ্য দেখা যায়নি। বরং তাঁকে ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা বলয়, সঙ্গে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী।
কয়েকদিন আগেই এনআইএ শওকত মোল্লাকে কলকাতা-র চিংড়িঘাটা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই পদক্ষেপ করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এনআইএ হেফাজতে।
পরে আদালতের নির্দেশে এনআইএ হেফাজত থেকে চার দিনের জন্য জীবনতলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনতলা থানায় শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় জেলা পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শওকত মোল্লাকে জীবনতলা থানায় নিয়ে আসা হয়।
তারপর থেকেই এলাকাজুড়ে শুরু হয় জোর জল্পনা— কবে তাঁকে নিয়ে তদন্তে নামবে পুলিশ এবং কী পদক্ষেপ করা হবে। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে জীবনতলা থানা থেকে শওকত মোল্লাকে বের করা হয়। পুলিশের একটি বড় কনভয়ের মধ্যে তাঁকে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক স্থান চিহ্নিত করা, স্থানীয় সূত্র যাচাই এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার জন্যই এই পরিদর্শন জরুরি ছিল। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শওকত মোল্লাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয় ও প্রভাবের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেটি ভাঙার বার্তাও দিতে চেয়েছে পুলিশ।
শওকত মোল্লাকে দেখতে এদিন রাস্তায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুরুষ, মহিলা, যুবক— নানা বয়সের মানুষ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করেন।
ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলা থেকে ধর্ষণের অভিযোগ— একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ায় প্রাক্তন বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং আগামী দিনে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

