নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বনগাঁ :: বৃহস্পতিবার ১১,জুন :: পুত্রসন্তান চাইতো পরিবারের লোকেরা ৷ কিন্তু কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধুর উপর ক্ষোভ বাড়ছিল স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেওরের ৷
অভিযোগ, কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সেই খুনের মামলার শ্বশুরবাড়ির স্বামী সহ ৪ সদস্যকে যাবজ্জীবনের সাজা ঘোষণা করেন বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক ৷
https://youtu.be/8ilBTTjDJIc\
বনগাঁ মহকুমা আদালতের আইনজীবী শ্যামল বিশ্বাস বলেন, বিচারক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার গৃহবধূর স্বামী তারক কর্মকার, শ্বশুর সমীর কর্মকার, দেওর জয়দেব কর্মকার ও শাশুড়ি সাবিত্রী কর্মকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম সাজা শুনিয়েছেন ৷
কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় যেভাবে গৃহবধূকে খুন করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এই সাজা মানুষের মধ্যে অনেক বেশি আস্থা জোগাবে ৷ মোট তেরো জনের সাক্ষী নেওয়া হয়েছে এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও চিকিৎসক শ্বাসরোধ করে খুনের সাক্ষ্য দিয়েছিল ৷
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালনগর থানার কামদেবপুরের বাসিন্দা তারক কর্মকারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল গৃহবধূ পিঙ্কি কর্মকারের। তারক পেশায় গ্যারেজ মিস্ত্রি ৷ অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য গৃহবধূর উপরে চাপ দিতো তারক ও তার পরিবার৷ সেই সঙ্গে তারা পুত্রসন্তান চেয়েছিল ৷
বিয়ের আড়াই বছর বাদে কন্যাসন্তান জন্ম হতেই অত্যাচারের মাত্রা তীব্র হয় ৷ ঘটনার নয় বছর পর সাজা ঘোষণা হওয়ায় খুশি গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা৷ মৃত গৃহবধূর ভাই বলেন, ৯ বছর পরে সাজা হলো। আরো আগে হলে ভালো হতো ৷
শুধুমাত্র মেয়ে হওয়ার কারণে এবং পণের টাকা না দেওয়ায় যেভাবে অত্যাচার করে খুন করেছে আমার দিদিকে ওদের শাস্তি হওয়ার দরকার ছিল৷

