নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নিউজ ডেস্ক :: বৃহস্পতিবার ২৮,মে :: দীর্ঘ জল্পনা, দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন সিদ্দারামাইয়া।
এরপরই কার্যত পরিষ্কার হয়ে যায় যে রাজ্যের নেতৃত্ব এবার শিবকুমারের হাতেই যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস হাইকমান্ড সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং রাজ্যসভার আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল।
কিন্তু প্রবীণ এই নেতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আগ্রহী নন এবং কর্নাটকের রাজনীতিতেই থাকতে চান।
সেই কারণেই তিনি রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে বেঙ্গালুরুর সরকারি বাসভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন সিদ্দারামাইয়া।
সেখানেই তিনি জানান, দলের নির্দেশ মেনে তিনি পদত্যাগ করছেন এবং ডিকে শিবকুমারই তাঁর উত্তরসূরি হবেন। পরে রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি।সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কে সি ভেনুগোপাল, রণদীপ সুরজেওয়ালাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়। সেখানে কর্নাটকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য ছিল দলীয় ভারসাম্য বজায় রেখে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা।
ডিকে শিবকুমারের উত্থানকে কংগ্রেসের সংগঠনিক রাজনীতির বড় সাফল্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি ধীরে ধীরে কর্নাটক কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। সংকটের সময়ে ‘ট্রাবলশুটার’ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পিছনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। তবে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সিদ্দারামাইয়াকে সরানো হলে ওবিসি সমাজের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের জন্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সামাজিক মাধ্যমে দলীয় তরফে সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের একাধিক ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে— “Unity is our strength.” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন করতে চাইছে কংগ্রেস।
এখন নজর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং ডিকে শিবকুমারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই বেঙ্গালুরুতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।

