কল সেন্টারের আড়ালে আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র, কলকাতায় গ্রেপ্তার মূল পাণ্ডা সৈকত

সজল দাশগুপ্ত :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: সোমবার ১৪,সেপ্টেম্বর :: কলসেন্টারের আড়ালে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতারণা চক্র চালানোর অভিযোগে এক মূল পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার করল মাটিগাড়া থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সৈকত সিনহা রায়।

কলকাতার সোদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে মাটিগাড়া থানার একটি বিশেষ টিম তাঁকে গ্রেপ্তার করে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার সকালে তাঁকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সৈকতই এই বিশাল প্রতারণা চক্রের মূল মাথা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ ওয়েবেল আইটি পার্কের ফেজ-১, ফেজ-২ এবং লিচুবাগানের ফেজ-৩-এ অভিযান চালিয়ে একটি ভুয়ো কলসেন্টারের হদিস পায়।

সেখান থেকে দুই দফায় মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং দুটি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন লিচুবাগান আইটি পার্কের ওই কলসেন্টারেই কাজ করতেন।

তাঁরা জানান, নিজেকে ডিরেক্টর পরিচয় দেওয়া সৈকত সিনহা রায়ই কলকাতার বসে পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কলসেন্টারের আড়ালে মূলত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হতো।

সৈকত সোদপুরে বসে জালিয়াতির যাবতীয় রসদ জোগাতেন। মাঝে মাঝে শিলিগুড়ি এসে লিচুবাগানের আইটি পার্কের ‘জি-১৪’ নম্বর ঘরে কর্মীদের ‘স্পিচ’ বা বিশেষ নির্দেশ দিতেন।পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সৈকত নির্দিষ্ট সময় অন্তর কলসেন্টারের অফিস এবং নিজের থাকার ভাড়া বাড়ি পরিবর্তন করতেন।

প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজন জামিন পেলেও, পুলিশ দু’জনকে পাঁচ দিনের হেপাজতে নিয়ে জেরা পর্ব চালিয়েছিল। তাঁদের থেকেই সৈকতের ঠিকানা ও কাজের পদ্ধতির স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। অফিস গুটিয়ে দিলেও মূল ডিরেক্টর ধরা না পড়ায় মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

তবে সোদপুর থেকে সৈকতকে পাকড়াও করায় তদন্তে বড় সাফল্য এলো বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতারণার জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এই চক্রে আরও কারা জড়িত, তা জানতে ধৃত সৈকতকে ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =