সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: কুলপি :: শুক্রবার ১২,জুন :: কুলপি বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে পার্টি অফিসে মজুত করে রাখা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুলপি থানার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিজেপি কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে ওই পার্টি অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানের পর প্রকাশ্যে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কুলপি বিধানসভার অন্তর্গত একটি তৃণমূল পার্টি অফিসের দোতলায় দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল পরিমাণ বস্তাবন্দি মালপত্র মজুত রাখা ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুলপি থানার পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
অভিযোগ, বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অভিযানটি ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয় বলে দাবি। পার্টি অফিসের পাশের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে একটি ঘরের দরজা খুলতেই চোখ কপালে ওঠে উপস্থিত সকলের।
অভিযোগ, সেখানে বস্তার পর বস্তা ত্রাণ সামগ্রী মজুত ছিল। বেশ কয়েকটি বস্তা খুলে দেখা যায় তার ভিতরে রয়েছে কম্বল, শাড়ি, শিশুদের পোশাক, লুঙ্গি, বেড কভার-সহ একাধিক সামগ্রী। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ ত্রিপল মজুত থাকার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই সমস্ত সামগ্রী মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঈদের সময় বিতরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলিকে সাহায্যের জন্য আনা হয়েছিল।
কিন্তু সেই ত্রাণসামগ্রী প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছয়নি। বরং সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে পার্টি অফিসে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পরবর্তীতে সেই সামগ্রী বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গাড়িতে করে কুলপি বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামগ্রীর তালিকা তৈরি এবং তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, “ত্রাণ নিয়ে রাজনীতি এবং আত্মসাৎ—দুটোই হয়েছে এখানে।” অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগেও উঠে এসেছে ক্ষোভ ও বঞ্চনার ছবি।
এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মী ঘোষ বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমার বাড়ির ছাদ ভেঙে গিয়েছিল। আমি বারবার তৃণমূল নেতাদের কাছে ত্রিপলের জন্য গিয়েছি। কিন্তু আমাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে কোনও ত্রিপল নেই। এখন দেখছি হাজার হাজার ত্রিপল মজুত রয়েছে। সাধারণ মানুষের জিনিস এভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
এখন প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে এতদিন ধরে মজুত ছিল? কার নির্দেশে এই সামগ্রী সেখানে রাখা হয়েছিল? কেন প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে তা পৌঁছয়নি?
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। কুলপির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

