ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই ডুবে যায় শহর! বারুইপুরের জলযন্ত্রণায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: বুধবার ২,সেপ্টেম্বর :: সোনারপুর, কুলপি, রায়দিঘি-সহ একাধিক এলাকায় বৃষ্টির জল জমে তৈরি হয়েছে চরম জলযন্ত্রণা। বিশেষ করে বারুইপুর পুরসভা এলাকার একাধিক ওয়ার্ডে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

কোথাও হাঁটু সমান জল, কোথাও আবার বাড়ির উঠোন পেরিয়ে ঘরের ভিতরেও ঢুকে পড়েছে জল। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। বৃষ্টির কারণে শুধু রাস্তা নয়, একাধিক বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং স্থানীয় সংযোগকারী পথেও জল জমেছে। জলমগ্ন রাস্তায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

অনেক জায়গায় পথচারীদেরও জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে কর্মস্থলে পৌঁছনো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জলাবদ্ধতার কারণে তৈরি হয়েছে সমস্যা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পর জল জমা বারুইপুরের নতুন কোনও সমস্যা নয়। প্রতিবছর বর্ষায় একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক নিচু এলাকা জলের তলায় চলে যায়। তাঁদের অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছে পুর এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা।

দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নর্দমা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ। নর্দমায় পলি, কাদা ও আবর্জনা জমে জল বেরোনোর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে বৃষ্টির জল দ্রুত নেমে যাওয়ার পরিবর্তে রাস্তায় জমে থাকছে।

বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বর্ষার আগে নিকাশি নালাগুলি সংস্কার এবং পলি তোলার কাজ করার কথা থাকলেও বহু এলাকায় তা হয়নি। কোথাও নালা থাকলেও তার মুখ আবর্জনায় আটকে রয়েছে। আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিকাশি নালা না থাকায় বৃষ্টির জল বেরোনোর কোনও পথই নেই।

এর ফলেই প্রতি বছর বর্ষা এলেই জলযন্ত্রণা আরও তীব্র হয়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের। জল জমে থাকার কারণে স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নোংরা ড্রেনের জল এবং পচা কাদা রাস্তায় উঠে আসায় বিভিন্ন এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

দীর্ঘক্ষণ জমে থাকা নোংরা জলে মশার উপদ্রবও বাড়ছে। ফলে মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। দ্রুত নোংরা জল সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেবতী মিদ্দা বলেন, “প্রতিবছরই আমাদের একই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। পৌরসভা প্রতিবছর ড্রেন করার জন্য আসে, মাপজোকও করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ড্রেন তৈরি হয় না। এখন বৃষ্টি আরও বাড়লে কী পরিস্থিতি হবে, তা ভেবেই চিন্তা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + seventeen =