আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ৯,মে :: ছোটবেলায় সংসারের অভাব, কাঁচা মাটির বাড়ি আর সীমিত স্বপ্ন নিয়েই বড় হয়ে ওঠা। কিন্তু সেই সাধারণ পরিবারের ছেলেই আজ দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বহু বছরের সাংগঠনিক জীবনের পর অবশেষে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ ।
আর সেই মুহূর্ত টেলিভিশনের পর্দায় দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না তাঁর বৃদ্ধা মা। বুধবার ব্রিগেডের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ।
শপথের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা গিয়েছে উচ্ছ্বাস, আর খড়্গপুরের বাড়িতে যেন উৎসবের আবহ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অল্প বয়সেই দেশের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিলীপ। কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগেই তিনি ঘর ছেড়ে পূর্ণসময়ের আরএসএস প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দিনের পর দিন বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের কাজে ঘুরে বেড়ানো।
সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে থাকা, কঠোর অনুশাসনের জীবন— এভাবেই কেটেছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অধ্যায়। স্থানীয়দের কথায়, “ছোটবেলা থেকেই ওঁর মধ্যে আলাদা জেদ ছিল। খুব কম কথা বলতেন, কিন্তু যা ঠিক করতেন তা করেই ছাড়তেন।”
দিলীপ ঘোষের মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ছোটবেলায় ও বলেছিল দেশের জন্য কাজ করবে। তখন বুঝিনি এত বড় জায়গায় পৌঁছবে। আজ ওকে মন্ত্রী হতে দেখে খুব আনন্দ হচ্ছে। চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনের একেবারে নিচুতলা থেকে উঠে এসে মন্ত্রী হওয়া বিজেপির কাছে বড় রাজনৈতিক বার্তা।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে দলের পুরনো সাংগঠনিক মুখদের গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বিতর্কও পিছু ছাড়েনি দিলীপ ঘোষের। তবে দলীয় কর্মীদের একাংশের মতে, তাঁর স্পষ্টভাষী মনোভাব এবং মাঠে নেমে সংগঠন করার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর সময় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। সাধারণ কর্মীর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব।”
খড়্গপুরে তাঁর পুরনো পাড়ায় এদিন মিষ্টি বিলি করতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের। অনেকেই বলেন, “এটা শুধু দিলীপবাবুর সাফল্য নয়, বাংলার সাধারণ পরিবারের ছেলেদের জন্যও অনুপ্রেরণা।” সংগঠনের প্রচারক থেকে দেশের মন্ত্রীসভায় জায়গা— দিলীপ ঘোষের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ।

