জাহাঙ্গীর–সারিকার সম্পত্তি রহস্যে তোলপাড় ডায়মন্ড হারবার – ফের আদালতে দম্পতি

সুদেষ্ণা মন্ডল  :: সংবাদ প্রবাহ :: ডায়মন্ড হারবার :: মঙ্গলবার ৩০,জুন :: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান ও তার স্ত্রী সারিকা ওরফে রেজিনা বিবিকে ঘিরে। পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে মঙ্গলবার তাদের ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই মামলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর খান ও তার পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি থাকার অভিযোগ ঘিরে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগপত্রে জাহাঙ্গীর খান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক স্থাবর সম্পত্তির নথি পুলিশ ও প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর খানের নিজের নামে অন্তত ৪টি সম্পত্তি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তার স্ত্রী সারিকা ওরফে রেজিনা বিবি-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও রয়েছে মোট ৩৪টি সম্পত্তি। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্বল্প সময়ে এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার পেছনে আর্থিক অনিয়ম বা অন্য কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক নথি যাচাই করা হচ্ছে। জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তির কাগজপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে মালিকানার প্রকৃত চিত্র।

প্রাথমিক তদন্তেই বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। ইতিমধ্যেই একাধিক ভুয়ো বা সন্দেহজনক সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলেও জানা গিয়েছে। কিছু সম্পত্তির নথিতে তথ্য গোপন, মালিকানা বদল এবং আর্থিক লেনদেনে অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

এই মামলায় বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই সরব হয়ে দাবি করেছেন, গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের অজান্তে বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে এবং তার পেছনে কী ধরনের আর্থিক উৎস কাজ করেছে, তা সামনে আনা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত চালায়, তাহলে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × three =